বালুরঘাট: বালুরঘাট (Balurghat) সহ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে বালুরঘাট ব্লকের ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙ্গি এলাকায় আত্রেয়ীর নদী পাড়ে। আত্রেয়ী নদীর জলস্তরও বেড়েছে৷ একটু একটু করে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে ডাঙ্গি ফরেস্টের বহু সরকারি গাছ। প্রতি বছর ভাঙছে ডাঙ্গি ফরেস্ট। নদী ভাঙ্গন বাড়লেও নদীর পার বাঁধাই করতে কোন হেলদোল নেই প্রশাসনের বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বালুরঘাট ব্লকের ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে রয়েছে ডাঙ্গি ফরেস্ট (Dangi Forest)। প্রায় ১১ একর জমির উপর বেশ কয়েক বছর আগে লাগানো হয়েছিল কয়েক লক্ষ গাছ। একটা সময় জেলা প্রশাসন ওই ফরেস্টটিকে ইকো টুরিজম পার্ক করার উদ্যোগ নিয়েছিল। পরে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে বিস্তীর্ণ জমিতে এখন শুধু গাছ রয়েছে। একেবারেই আত্রেয়ী নদীর পারেই রয়েছে ফরেস্টটি। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত যে পরিমাণ গাছ ও জমি ছিল সেগুলি নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। এবারেই প্রায় ১০ ফুট নদী পাড় একবারে ভেঙে গেছে। জলে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গাছ। আরও বেশ কিছু এলাকায় নদী পাড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। এদিকে নদীর ওপারে রয়েছে ফতেপুর এলাকা। সেখানে নদী পাড় বোল্ডার দিয়ে বাঁধাই করা হয়েছে। যার ফলে ওপারে আর ভাঙন হয়না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ওই ফরেস্টের গাছ ও জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেলেও জেলা প্রশাসন বা সেচ দপ্তর এনিয়ে কোন উদ্যোগ নেয় না। এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সনাতন মণ্ডল ও প্রকাশ মণ্ডল বলেন, ‘খিদিরপুর থেকে ডাঙ্গি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার নদীপাড় ভেঙে যাচ্ছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। প্রতি বছর ১০-২০ ফুট করে নদীপাড় ভেঙে যায়। এভাবে নদীপাড় ভাঙলে আগামী দিনে আমাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যাবে।’
এবিষয়ে স্থানীয় ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নীলিমা বর্মন বলেন, ‘এই ফরেস্টটি আমাদের অধীনেই রয়েছে। প্রতিবছর নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এত বড় কাজ পঞ্চায়েতের তরফে করা সম্ভব নয়। বিষয়টি ব্লক ও পঞ্চায়েত সমিতিকে জানিয়েছি। ’ এবিষয়ে বালুরঘাট ব্লকের বিডিও সম্বল ঝাঁ বলেন, ‘গাছগুলোকে বাঁচানোর জন্য বিষয়টি সেচ ও বনদপ্তরকে জানাব।’ অন্যদিকে এবিষয়ে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, ‘এনিয়ে সেচ দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব।’
