উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে নিজের অবস্থান নিয়ে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন তৃণমূল সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট লিখে বাবুল স্পষ্ট করে দিলেন, হাজারো প্রতিকূলতার মুখেও তিনি দিদি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাশেই অটল রয়েছেন। একইসঙ্গে দলের অন্দরে ঘাপটি মেরে থাকা বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে উগরে দিলেন তীব্র ক্ষোভ।
পোস্টে বাবুল দাবি করেন, একসময় যারা নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চটি চাটতে’ও কুণ্ঠাবোধ করতেন না, আজ তারাই ক্ষমতার লোভে দল ছেড়ে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো ভুল কাজ করেননি বলেই ইডি, সিবিআই বা আয়কর দপ্তরকে তিনি বিন্দুমাত্র ভয় পান না।
রাজনীতিতে নিজের অতীত ও বর্তমানে আসার নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরে বাবুল বলেন, ২০২১ সালে বিজেপিতে (BJP) থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ‘নিষ্ঠুর’ আচরণ করা হয়েছিল। রাজনীতি ছেড়ে গানে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও বন্ধু ডেরেক ও’ব্রায়েনের অনুরোধে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সদিচ্ছায় তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁর কথায়, “দিদি চেয়েছিলেন আমি যেন রাজনীতি না ছাড়ি। তিনি আমায় কথা দিয়েছিলেন, গানে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।”
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আসানসোলের সাংসদ থাকাকালীন উন্নয়নের কাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেছেন বাবুল। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো থেকে শুরু করে ইএসআই হাসপাতালের নির্মাণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই মুখ্যমন্ত্রী ও ফিরহাদ হাকিমদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। উল্টোদিকে, বিজেপিতে থাকাকালীন জিতেন্দ্র তিওয়ারি বা রাজু ঝাদের মতো নেতাদের অন্তর্ঘাতের যন্ত্রণা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সৌজন্য রক্ষায় তিনি যে আপসহীন, তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন বাবুল। বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা যেমন স্বীকার করেছেন, তেমনি মমতার সঙ্গে জন্মতারিখ মিলে যাওয়ার কাকতালীয় যোগসূত্র ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও মন্তব্য করেছেন।
পোস্টের শেষে ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে রসিকতার সুরে বাবুল লিখেছেন, এই পোস্টে তিনি কোনো মন্তব্য করার সুযোগ রাখছেন না। আপাতত নিজের মোবাইল থেকে ফেসবুক অ্যাপটি সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি। এখন থেকে তাঁর টিম কেবল তাঁর গান ও কাজের আপডেট শেয়ার করবে।
