ডেঙ্গুর মতোই বাংলাদেশে মারণ আঘাত হানছে হাম। শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বয়স্করা আক্রান্ত হলেও এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর খবর নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রাণ গিয়েছে আরও ৪ শিশুর। এই নিয়ে সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা হল ৬০৫। চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামে যমজ ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। পরপর দুই শিশুসন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় শোকে পাথর বাবা-মা। মর্মাহত পাড়া-প্রতিবেশীরাও।
আগেই অভিযোগ উঠেছিল, ২০২৪ সালে ৮ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণ করার পর আর্থিক সুবিধা পেতে ইউনুস ইউনিসেফের থেকে টিকা কেনা বন্ধ করে ব্যক্তিভাবে টিকা কেনার ব্যবস্থা করেন। টিকা কেনার অব্যবস্থার কারণেই পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। গত সপ্তাহে বাংলাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ উল্লেখ করে প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের ভূমিকার তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইউনুস ছাড়াও প্রাক্তন সব উপদেষ্টা-সহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয় আদালতের কাছে।
আরও পড়ুন:
বুধবার (৩ জুন) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যমজ শিশু নোমানের মৃত্যু হয়। এর ১৫ দিন আগে অপর যমজ ভাই ফাহিমের মৃত্যু হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। তাদের বয়স দেড় বছর। মারা যাওয়া দুই শিশুর বাবা হারুন উর রশিদ বলেন, ‘সরকার যখন বিভিন্ন এলাকায় হামের টিকা দিচ্ছিল, টিকা দেওয়ার জন্য আমার দুই শিশুকে নিয়ে যাই। তখন টিকার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বলেন, টিকা শেষ হয়ে গিয়েছে। আমি আর আমার ছেলেদের টিকা দিতে পারিনি।’
এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও চারশিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২০৫টি শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে মৃত্যু হয়েছে ৬০৫ শিশুর। সাধারণ মানুষ বলছেন বেসরকারিভাবে এ আরও অনেক বেশি হবে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭৫ হাজার ৭০৮ শিশু। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬১ হাজার ১৯৪ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ৫৭ হাজার ৪৩ শিশু।
অপরদিকে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকায় সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গিয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া
হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
