করণদিঘি: সংখ্যালঘু দপ্তরের স্কলারশিপের (Scholarship rip-off) কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ। উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur) জেলায় বড় সাফল্য পেল সিআইডি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া গোয়ালপোখর থানার ফুলবাড়ি থেকে ইউসুফ আলী (৩০) নামে এক তৃণমূল যুবনেতাকে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। ধৃত ব্যক্তি করণদিঘির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক গৌতম পালের ‘ছায়া সঙ্গী’ হিসেবে পরিচিত। এই গ্রেপ্তারের পর থেকেই প্রাক্তন বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এবং সিআইডি তাঁর খোঁজেও তল্লাশি শুরু করেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৬ সাল থেকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই দুর্নীতি চালিয়ে আসছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। সাবধান হাইস্কুলের পড়ুয়া সংখ্যা যত, তার চেয়ে দ্বিগুণ সংখ্যা দেখিয়ে সংখ্যালঘু দপ্তরের স্কলারশিপের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। এমনকি, বয়স্কদের ছাত্র সাজিয়ে তাদের নামে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে এই টাকা আত্মসাৎ করা হতো। স্কুল সংলগ্ন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করেই চলত এই অবৈধ ‘অপারেশন’।
এই কেলেঙ্কারিতে শুধু করণদিঘি (Karandighi) নয়, গোটা উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কাজ করত বলে সিআইডি সূত্রে খবর। অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৯ লক্ষ টাকার জমির দলিল, ১৩০টি পুকুর, ১৬০টি এটিএম কার্ড এবং একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র উদ্ধার হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই দুর্নীতি চললেও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতাদের দাপটে এতদিন ভয়ে মুখ খোলেননি কেউ। স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ আবু সানার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়, যা পরে সিআইডির হাতে পৌঁছায়।
অন্যদিকে, এই স্কলারশিপ দুর্নীতির পাশাপাশি ট্যাবের টাকা তছরুপ নিয়েও সিআইডি সমান্তরালভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। ধৃত তৃণমূল যুবনেতা ইউসুফ আলীকে সাতদিনের সিআইডি হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিআইডি-র এক উচ্চপদস্থ কর্তার কথায়, তদন্তের প্রতিটি ধাপে প্রাক্তন বিধায়ক গৌতম পালের নাম উঠে আসছে। তিনিও এখন সিআইডি-র স্ক্যানারে রয়েছেন। প্রাক্তন বিধায়কের দিকে সিআইডির এই নজরদারির ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রবল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
