জলপাইগুড়ি: বর্ষার আগে উত্তরের তিন জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে (North Bengal flood management) তিনটি বড় প্রকল্পের অনুমোদন দিল রাজ্য সেচ দপ্তর। তিনটি প্রকল্পের জন্য সাত কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও চলতি বছরে বর্ষার পরে প্রকল্পগুলির কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ বর্ষার পরে কেন করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম ও কংগ্রেস।
অনুমোদিত তিনটি প্রকল্পের মধ্যে আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) কুমারগ্রামের ফাকুডোবা এলাকায় সংকোশ নদীর ডানদিকের নদীবাঁধ মেরামত ও মজবুত করা হবে। তার জন্য ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটায় ডায়না নদীর ডানদিকের বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ করা হবে। শিলিগুড়ির নকশালবাড়ির এমএম তরাই এলাকায় বালাসন নদীর ডানদিকের বাঁধের এক কিমি পঞ্চাশ মিটারজুড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
কাজ নিয়ে সেচ দপ্তরের এক পদস্থ ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, এসআইআর এবং ভোটের কারণে ডিপিআর তৈরি করা থেকে শুরু করে প্রকল্পের অনুমোদন, সব পেতেই দেরি হয়েছে। তবে টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার করা হয়েছে। কাজ এই বর্ষার মধ্যে শুরু করা যাবে কি না, সেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে দেখা হচ্ছে। এদিকে এ নিয়ে জেলা সিপিএম সম্পাদক পীযূষ মিশ্র বলেন, ‘বর্ষার মধ্যে এইভাবে গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলির উপর বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজের অনুমোদন দিয়ে লাভ কী, যদি বর্ষার আগে কাজ শুরুই করা না যায়।’ একই বক্তব্য জেলা কংগ্রেস সভাপতি অমিত ভট্টাচার্যেরও।
আবার তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের অভিযোগ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বহু কাজ ভোট ঘোষণার আগেই তদানীন্তন তৃণমূল সরকার অনুমোদন দিয়ে রেখেছিল। তাহলে রূপায়ণে এত দেরি হচ্ছে কেন? সেই প্রশ্ন তুললেন তিনি। যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামল রায়ের কথায়, ‘আগে দপ্তরের কলকাতা অফিসে একগুচ্ছ বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রাক্তন তৃণমূল সরকার সেগুলির অনুমোদন দেয়নি। এখন বিজেপি সরকার কাজের অনুমোদন দিয়েছে।’

