নীতেশ বর্মন, শিলিগুড়ি: ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের (Hen’s Neck) নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। গত জুলাই মাসে উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সীমান্ত পরিদর্শন এবং বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah)। সেবার একরাত ছিলেন তিনি। তার এক মাসের মাথায় ফের উত্তরবঙ্গে আসছেন তিনি। ২০ থেকে ২২ অগাস্ট- উত্তরবঙ্গে তাঁর টানা তিনদিনের অবস্থানকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিভঙ্গিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। এবার তিনি শিলিগুড়িতে থাকবেন দুই রাত। রয়েছে ঠাসা কর্মসূচি।
এবিষয়ে রাজ্যের অর্থ ও পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মনের বক্তব্য, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শিলিগুড়িতে স্বাগত। বৈঠকে ডাক এখনও পাইনি। চিকেনস নেকের সুরক্ষা সবসময় আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পাবে।’
ভারতের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে ‘চিকেনস নেক’-এর অবস্থান কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংবেদনশীলও বটে। আন্তর্জাতিক সীমানাঘেরা শিলিগুড়ি করিডর দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সিকিম এবং উত্তর-পূর্বের ৭টি রাজ্যকে যুক্ত রেখেছে। একদিকে বাংলাদেশে ভারত বিরোধী শক্তির আস্ফালন, অন্যদিকে সম্প্রতি সীমান্ত ঘেঁষা দিনহাটা থেকে আইএসআই চর সন্দেহে বেশ কয়েকজনের গ্রেপ্তারির পর শিলিগুড়ি করিডর নিয়ে কোনও ফাঁকফোকর রাখতে রাজি নয় কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনঘন উত্তরবঙ্গে আগমনেই তা স্পষ্ট।
বৃহস্পতিবার (২০ অগাস্ট) সন্ধ্যা ৭ঃ৩০টায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অমিত শা বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামবেন। সেখান থেকে তিনি সরাসরি সড়কপথে সুকনার একটি রিসর্টে পৌঁছোবেন। রাতে সেখানেই থাকবেন। শুক্রবার (২১ অগাস্ট) সকালে সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টার রানিডাঙ্গায় একাধিক পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। মধ্যাহ্নভোজ সারবেন সেখানেই। পাশাপাশি ভারত-নেপাল ও ভারত-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন। সেদিন বিকেলে কাওয়াখালির মাঠে আয়োজিত এক বৃহৎ নাগরিক কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন তিনি। সেখানে নতুন তিন ফৌজদারি আইন— ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও জনসচেতনতা নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে তাঁর। বুধবার এডিজি মনোজ ভার্মা কাওয়াখালিতে পরিদর্শনে আসেন। নিরাপত্তা খতিয়ে দেখেন।
অন্যদিকে, শুক্রবার কাওয়াখালি থেকে সুকনার রিসর্টে ফিরে রাতেই এক ঘণ্টা করে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর রিভিউ মিটিং সারবেন শা। বিএসএফ, এসএসবি এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন। ‘চিকেনস নেক’-এর ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হবে মিটিংয়ে।
শনিবার (২২ অগাস্ট) সফরের শেষ দিনে জেলা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আরও দুটি রিভিউ মিটিং করার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। এসব বৈঠক নিয়ে চূড়ান্ত গোপনীয়তা রাখা হচ্ছে। তবে দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত তাঁদের কোনও বৈঠকে ডাকা হয়নি। বৈঠক সেরে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন অমিত শা।
অনুপ্রবেশ ও পাচার রোধ এবং সিসিটিভি, ড্রোন ও রাডারের সমন্বয়ে স্মার্ট বর্ডার গড়ে তোলার ওপর কেন্দ্রীয় সরকার জোর দিচ্ছে। শা’র এই হাই প্রোফাইল সফর তারই নির্দেশক। গত মাসে জুমাগছে বিএসএফের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি। সেখানে সীমান্ত পরিকাঠামোর উদ্বোধনও হয়েছিল।

