উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এক সপ্তাহ আগে আজকের দিনেই আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব তাঁর বড় ছেলে তেজপ্রতাপকে দল ও পরিবার থেকে বের করে দিয়েছিলেন। এরপর বিহারের রাজনীতি বেশ কিছু ঘটনাবলীর সাক্ষী থেকেছে এই কদিনে। তেজের বহিস্কার নিয়ে একে একে মুখ খুলেছেন তেজপ্রতাপের ভাই তেজস্বী ও স্ত্রী ঐশ্বর্যা। কিন্তু তেজপ্রতাপের মুখে ছিল কুলুপ আঁটা। অবশেষে রবিবার এবিষয়ে নিজের মনের কথা প্রকাশ করলেন তিনি। দিলেন বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা।
সমাজমাধ্যমে করা দু’টি পোস্টের মাধ্যমে নিজের মনের কথা প্রকাশ করেন তেজপ্রতাপ। প্রথম পোস্টটিতে তিনি জানান, লালুর আদেশ মেনে তিনি নিয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় পোস্টেই আবার দলের কিছু নেতার দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমার প্রিয় বাবা ও মা। আমার গোটা পৃথিবীতে শুধু তোমরা দুজন রয়েছ। তোমাদের দেওয়া যে কোনও আদেশ আমার কাছে ঈশ্বরের চেয়ে বড়। আমার শুধু তোমাদের বিশ্বাস ও ভালোবাসা প্রয়োজন।’ এরপরেই তিনি আরও বলেন, ‘বাবা, তুমি যদি না থাকতে তাহলে এই আরজেডি দলটা থাকত না। শুধু তাই নয়, জয়চাঁদের মতো কিছু লোভী মানুষ রয়েছে। তাঁদেরও দলে ঠাঁই হত না।’
প্রসঙ্গত, এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় ২৪ মে। ওইদিন সন্ধ্যায় তেজপ্রতাপের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এক মহিলার ছবি পোস্ট করা হয়। ছবিতে তেজপ্রতাপের সঙ্গে যাঁকে দেখা যায় তাঁর নাম অনুষ্কা যাদব। সেখানে দাবি করা হয়, তেজপ্রতাপ ও অনুষ্কা ১২ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন। সেই সম্পর্কের কথা এখন তিনি প্রকাশ্যে আনছেন।এমন খবর সামনে আসতেই বিহারের রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। যদিও তেজপ্রতাপের দাবি, তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল হ্যাক করা হয়েছে। তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সম্নান নষ্ট করতে এসব করা হচ্ছে। এধরনের গুজব থেকে দূরে থাকার কথা বলেন তেজপ্রতাপ।
কিন্তু ওই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তেজপ্রতাপকে দল ও পরিবার থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন লালু। লালু জানান, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ এবং ‘পারিবারিক মূল্যবোধ ক্ষুণ্ণ’ করার কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ছয় বছর দলের সঙ্গে তেজপ্রতাপের কোনও সম্পর্ক থাকবে না।
এদিকে তাঁর এমন সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান তেজস্বীও। তাঁর কথায়, ‘আরজেডি ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক আচরণের মধ্যে বিভাজন বজায় রাখতে জানে।’ তবে রবিবার তেজপ্রতাপের সমাজমাধমে তাঁর বাবার উদ্দেশে এমন বার্তা দেওয়ার পর বিহারের রাজনীতি ও যাদব পরিবারের অন্দরে কোনও নতুন সমীকরণ তৈরি হয় কিনা সেটাই এখন দেখার।
