উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সামনে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর। তার আগেই ভারতীয় টি-২০ দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে বড় বার্তা দিলেন শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer)। দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটার জানিয়ে দিলেন নেতৃত্বের চাপ তাঁকে বদলে দিতে পারবে না। অন্য কারও ছায়াতেও তিনি ঢাকা পড়বেন না।
সম্প্রতি মুম্বইয়ে ‘কাবুনি প্রিমিয়ার লিগ’-এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শ্রেয়স বলেন, “ছোটবেলা থেকে চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসি। বিশেষ করে মুম্বইয়ে বড় হয়েছি, যেখানে ক্রিকেট একটা আবেগ। রাস্তায় খেলা প্রায় প্রত্যেক বাচ্চারই স্বপ্ন থাকে মুম্বইয়ের হয়ে মাঠে নামার। বড় হতে গিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। তাই আমার মানসিকতা সবসময়ই ছিল যে চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে, সেখানে জিততেই হবে।”
শ্রেয়সের মতে, অধিনায়কত্বের এই নতুন দায়িত্বকে তিনি একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তবে সেখানে শেখা বা জেতার চেয়েও বড় বিষয় হলো খেলাটিকে উপভোগ করা। তাঁর কথায়, “যত বেশি উপভোগ করবে, তত বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। ক্রিকেট হোক বা অন্য কোনও খেলা, সেই মানসিকতাই তোমাকে অন্য স্তরে নিয়ে যায়। তখন দায়িত্ব নিতে ইচ্ছে করে।”
এর পরেই শ্রেয়স এমন একটি মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ক্রিকেট মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ভারত অধিনায়ক বলেন, “এখন এই দায়িত্ব পেয়েছি। এটা দারুণ একটা চ্যালেঞ্জ। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাকে নিজের ব্যক্তিত্ব পালটাতে হবে। আগে যেমন ছিলাম, তেমনই থাকব। অন্য কারও মতো হওয়ার চেষ্টা করব না। কারও ছায়ার নিচেও থাকব না।”
তাঁর এই ‘ছায়া’ শব্দটি উচ্চারণ ঘিরে এখন নতুন করে পুরনো বিতর্কের স্মৃতি উসকে দিয়েছে অনুরাগী ও বিশেষজ্ঞদের মনে।
২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (KKR) আইপিএল (IPL) চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। কিন্তু সেই সাফল্যের সিংহভাগ কৃতিত্ব চলে গিয়েছিল দলের মেন্টর গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) ঝুলিতে। ক্রিকেট মহলে তখন ‘গম্ভীর-এফেক্ট’ নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছিল। মাঠের মধ্যে শ্রেয়সের নেতৃত্ব যথেষ্ট প্রশংসা কুড়োলেও, অনেকের মতেই তিনি প্রাপ্য কৃতিত্ব পাননি।
পরবর্তীতে কলকাতা ছেড়ে পঞ্জাব কিংসে যোগ দিলেও দুজনের মনোমালিন্যের জল্পনা থামেনি। যদিও প্রকাশ্যে কেউই তা স্বীকার করেননি। উলটে ২০১৮ সালে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের অধিনায়কত্বের সুযোগ শ্রেয়সকে গম্ভীরই করে দিয়েছিলেন। তবে জাতীয় দলে যখন আবার এই দুজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, তখন শ্রেয়সের এই ‘ছায়ার নিচে না থাকার’ মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
গত তিন বছরে অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়সের ধারাবাহিক সাফল্যই তাঁকে জাতীয় দলের মসনদে বসিয়েছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। ২০২৪-এ কলকাতাকে আইপিএল ট্রফি এনে দেওয়া। ২০২৫-এ পঞ্জাব কিংসকে আইপিএল ফাইনালে তোলা। ২০২৬-এ দল প্লে-অফে না উঠলেও শ্রেয়সের ম্যাচ রিডিং এবং নেতৃত্ব নজর কেড়েছে সকলের। ব্যাট হাতেও এবারের আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। ৫৫.২৩ গড় এবং ১৬৮.৮১ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৪৯৮ রান। ২০২৫ সালের প্রথম আইপিএল সেঞ্চুরির পর এটি তাঁর আরেকটি সফল মরসুম।
এই নজরকাড়া পারফরম্যান্সের কারণেই সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) জায়গায় শ্রেয়সকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচক কমিটি। দলে সহ-অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন তিলক বর্মা। এছাড়াও বৈভব সূর্যবংশী, হর্ষিত রানা-সহ একাধিক তরুণ তুর্কিকে নিয়ে সাজানো হয়েছে স্কোয়াড।
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টি-২০ সিরিজ দিয়েই ভারতের অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হতে চলেছে শ্রেয়সের। এরপর রয়েছে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের হাইভোল্টেজ সিরিজ।
