সামসী: মালদা জেলার চাঁচল-১ ব্লকের কলিগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকায় এক ৭০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধার রহস্যজনক ও নৃশংস খুনকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে (Aged Lady Murdered)। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে ধারালো সাঁড়াশি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে ওই বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। রবিবার রাতে তাঁর নিজের শোবার ঘর থেকেই রক্তাক্ত মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার খবর ছড়াতেই সোমবার সকাল থেকে কলিগ্রাম এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চাঁচল থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে খুনের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বৃদ্ধার নাম আরতী দাস (৭০)। তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তাঁরা শ্বশুরবাড়িতে থাকেন এবং ছেলে কর্মসূত্রে দীর্ঘ দিন ধরে কলকাতায় বসবাস করেন। ফলে কলিগ্রামের ওই বাড়িতে আরতী দেবী কার্যত একাই বসবাস করতেন।
পারিবারিক সূত্রে অভিযোগ, রবিবার রাতে কোনও এক সময় অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ী বা আততায়ীর দল পাঁচিল টপকে বা কোনও উপায়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। আরতী দেবী নিজের শোবার ঘরে থাকার সময় তাঁর ওপর আচমকাই ধারালো লোহার সাঁড়াশি নিয়ে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। তাঁর মাথা ও শরীরে সাঁড়াশি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে ঘরের মেঝেতেই ছিটকে পড়ে মৃত্যু হয় বৃদ্ধার। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মারফত খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চাঁচল থানার পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে কী কারণে এমন একজন নিরীহ ও নিঃসঙ্গ বৃদ্ধাকে এত নিষ্ঠুরভাবে খুন হতে হলো, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছে পুলিশ ও পরিবার। মৃতার বড় মেয়ে মধুমিতা দাস কান্নাভেজা গলায় জানান, “কী কারণে এই নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটল তা আমাদের মাথায় আসছে না। মায়ের সঙ্গে পাড়ার বা বাইরের কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। আমরা চাই পুলিশ তদন্ত করে খুনিদের খুঁজে বের করুক।” পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই চাঁচল থানায় একটি অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
চাঁচল থানা সূত্রে খবর, একাকী বৃদ্ধা বাড়িতে থাকার কারণে এটি কোনও ডাকাতি বা চুরির উদ্দেশ্যে খুনের ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনও সম্পত্তি বা ব্যক্তিগত শত্রুতার গোপন উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে— তা সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকে কলিগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে এক গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই হাড়হিম করা খুনের রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
