উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভোটের মুখে দেওয়া বড় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার, ১ জুন থেকে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা চালু হয়ে গেল (Free Bus Service for Ladies)। ক্ষমতা দখলের আগেই বিজেপির তরফে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, ১ জুন থেকেই এই জনমুখী প্রকল্প কার্যকর করা হবে। সেই ঘোষণা মতোই সোমবার সকাল থেকে উত্তর থেকে দক্ষিণ— রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য ভাড়া মকুব করা হয়েছে। বাসে ওঠার পর মহিলা যাত্রীদের হাতে ভাড়া নেওয়ার পরিবর্তে ‘জিরো ভ্যালু’ (Zero Worth) বা শূন্য মূল্যের একটি বিশেষ টিকিট তুলে দেওয়া হচ্ছে।
পরিবহন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, লোকাল বা স্বল্প দূরত্বের সরকারি বাস তো বটেই, এমনকি দূরপাল্লার সরকারি বাসেও (যেমন NBSTC, SBSTC বা WBTC) মহিলারা এই বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। তবে এই সুবিধার অপব্যবহার রুখতে এবং প্রকৃত উপভোক্তা যাচাই করতে মহিলা যাত্রীদের একটি নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র বাসের কন্ডাক্টরকে দেখাতে হচ্ছে। সরকার অনুমোদিত মোট ১২টি নথির যেকোনো একটি দেখালেই এই ছাড় মিলবে। এই নথিগুলির মধ্যে রয়েছে:
- ভোটার আইডি কার্ড (Voter Card)
- আধার কার্ড (Aadhaar Card)
- প্যান কার্ড (PAN Card)
- ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License)
- পাসপোর্ট (Passport)
- ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড
- আয়ুষ্মান ভারত কার্ড
- ছবি-সহ পেনশনের নথি
- রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া চাকরির পরিচয়পত্র
- স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ আইডি কার্ড
- সরকার দ্বারা স্বীকৃত অন্য যেকোনো ছবি-সহ পরিচয়পত্র।
সোমবার সকাল থেকেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত ডিপোর সরকারি বাসে এই নির্দেশিকা সম্বলিত লিফলেট ও পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। কন্ডাক্টর এবং চালকদেরও এই নতুন ‘জিরো ব্যালেন্স’ টিকিট কাটার ও নথি পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে আগে থেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রাথমিক ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত বাসে পরিচয়পত্র দেখালেই বিনামূল্যে টিকিট দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে যাতে কোনওরকম জালিয়াতি বা অপব্যবহার না হয়, তার জন্য আগামী দিনে আরও আঁটসাঁট ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য জুড়ে মহিলাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘বাস ট্রাভেল কার্ড’ বা বিশেষ স্মার্ট কার্ড তৈরি করে দেওয়ার। মহিলাদের ছদ্মবেশে অন্য কেউ যাতে বাসে উঠে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে না-পারেন, তা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করতেই এই ডিজিটাল কার্ডের ব্যবস্থা আনা হচ্ছে। তবে এই কার্ড কবে থেকে বিলি করা হবে, তা এখনও খোলসা করেনি প্রশাসন।
সপ্তাহের প্রথম দিনেই এই পরিষেবা পেয়ে স্বভাবতই দারুণ খুশি রাজ্যের সাধারণ ও কর্মজীবী মহিলারা। সোমবার সকালে বাসে যাতায়াতকালীন এক মহিলা যাত্রী আনন্দের সঙ্গে বলেন, “আমরা সাধারণ মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবী। প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করতে গিয়ে একটা বড় টাকা খরচ হয়ে যায়। বাসে ভিড়ের কারণে অনেক সময় বসার জায়গাও পাওয়া যায় না। তবে এখন থেকে আর ভাড়া লাগবে না শুনে খুব ভালো লাগছে, আমাদের মতো সাধারণ পরিবারের বড় সাশ্রয় হবে।” অন্য এক যাত্রীর কথায়, “সরকার ১ তারিখ থেকেই কথা রেখেছে দেখে ভালো লাগল। যাতায়াতের দৈনন্দিন খরচটা বেঁচে যাওয়ায় সংসার চালাতে সুবিধা হবে।” এই প্রকল্পের জেরে সরকারি বাসে মহিলাদের ভিড় অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।
