উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রুপোলি পর্দার রোমাঞ্চ আর বাস্তবের রুক্ষতা যখন মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন জন্ম নেয় এক অদ্ভুত টানাপড়েন। করাচির কুখ্যাত অথচ বর্ণময় এলাকা ‘লিয়ারি’ (Lyari)-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ছবি বা সিরিজ ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) এখন বক্স অফিসে রমরমিয়ে চলছে। কিন্তু সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে এক নতুন বিতর্ক (Lyari residents)। লিয়ারির বাসিন্দাদের সাফ কথা— “আমাদের পাড়া ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন, এবার সেই লভ্যাংশের ভাগ আমাদের দিতে হবে!”
কী নিয়ে এই গোলমাল?
করাচির লিয়ারি বরাবরই খবরের শিরোনামে থাকে তার ফুটবল প্রেম আর গ্যাং-ওয়ারের ইতিহাসের জন্য। নির্মাতারা প্রায়ই এই এলাকার ‘র’ (Uncooked) এবং মাচো মেজাজকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলে বাজিমাত করেন। ‘ধুরন্ধর’-এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু এবার লিয়ারির সাধারণ মানুষ আর চুপ করে বসে নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের পাওনা দাবি করছেন।
দাবির বহর দেখে থ নেটিজেনরা:
বাসিন্দাদের দাবির ধরণ এবং পরিমাণ দেখলে যে কেউ চমকে উঠতে পারেন। লিয়ারির গলি থেকে উঠে আসা দাবিগুলো ঠিক এইরকম:
রঙের দাবি: জনৈক বাসিন্দার মতে, লিয়ারির যে সমস্ত ভাঙাচোরা অংশ সিনেমায় দেখানো হয়েছে, অন্তত সেই দেওয়ালগুলোতে নতুন রঙের প্রলেপ লাগিয়ে দিক প্রযোজক সংস্থা।
অঙ্কের হিসাব: কেউ দাবি তুলেছেন লভ্যাংশের সরাসরি ৫০ শতাংশ, তো কেউ এক ধাপ এগিয়ে চেয়ে বসেছেন ৮০ শতাংশ লভ্যাংশ!
এককালীন অর্থ: একজন তো সোজাসুজি ২০ কোটি টাকা দাবি করে বসেছেন লিয়ারির উন্নয়নের জন্য।
গ্ল্যামার বনাম বাস্তবতা:
এই দাবিগুলো আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত বা মজার মনে হলেও, এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক চরম ক্ষোভ। লিয়ারির মানুষের অভিযোগ, বড় বড় প্রোডাকশন হাউস তাদের এলাকার দারিদ্র্য বা বিশেষ পরিবেশকে (Aesthetics) ব্যবহার করে ব্যবসা করে বেরিয়ে যায়। কিন্তু বিনিময়ে সেই এলাকার বা বাসিন্দাদের কোনও আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয় না। ক্যামেরায় লিয়ারির ‘গ্যাংস্টার লুক’ ফুটে উঠলে নির্মাতাদের পকেট ভরে, কিন্তু বাস্তবের লিয়ারি পড়ে থাকে সেই অন্ধকারেই।
সিনেমার দুনিয়ায় ‘লোকেশন ফি’ দেওয়ার চল থাকলেও, একটি গোটা এলাকার বাসিন্দাদের এভাবে লাভের গুড় দাবি করা কার্যত নজিরবিহীন (Revenue share)। করাচির এই ‘মিনি ব্রাজিল’ খ্যাত লিয়ারির মানুষের এই সরব হওয়া কি সিনেমার ইতিহাসে নতুন কোনও নিয়ম তৈরি করবে? নাকি ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্য স্রেফ বিতর্ক হয়েই থেকে যাবে, তা বলবে সময়। তবে আপাতত, সেলুলয়েডের পর্দার বাইরে লিয়ারির এই ‘আসল’ লড়াই কিন্তু বেশ জমে উঠেছে।
