উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডের মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta excessive Court docket) নির্দেশে বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ নির্দেশ দিয়েছেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তার (Arrest) করা যাবে না। তবে এই মামলার তদন্তে অভিষেককে সিআইডির সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
এদিন শুনানির শুরুতেই বিচারপতি কৌশিক চন্দের প্রশ্নের মুখে পড়েন অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। বিচারপতি স্পষ্ট জানতে চান, অভিষেক হাজিরা এড়িয়ে চলছেন কেন এবং তিনি ঠিক কবে সিআইডির মুখোমুখি হবেন। ১০ মিনিটের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি। পরিস্থিতি বুঝে অভিষেকের আইনজীবী জানান, আজ, বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টায় সিআইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে সিআইডি যখনই ডাকবে, অভিষেক তখনই তদন্তের স্বার্থে হাজিরা দেবেন বলেও আদালতকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তকারী আধিকারিকরা এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদও করা যাবে। তবে মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। আদালত তদন্তের যাবতীয় রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানি দু’সপ্তাহ পর ধার্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভা সচিবালয় এফআইআর দায়ের করার পরেই সিআইডি তদন্তে নেমেছিল। অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনো আইনি রক্ষাকবচ না থাকায় গত কয়েকদিন ধরে চাপ বাড়ছিল। যদিও হাই কোর্টের এই রক্ষাকবচ আপাতত তাঁকে বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা করল। তৃণমূলের দাবি, অভিষেক তদন্তে সহযোগিতা করতেই প্রস্তুত ছিলেন, শুধুমাত্র স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এখন সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর এই মামলার মোড় কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
