রেজিনগরের ভোট সংখ্যালঘুদের জন্য ‘শেষ সুযোগ’ বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরে ৭০ শতাংশ ভোটার। তার প্রভাব যে ভোটে কোনও একদিকে পড়বে তা স্পষ্ট রাজনৈতিক মহলের কাছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য খারিজ করে বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, সংখ্যালঘুদের ভয় দেখাতেই এমন বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু রেজিনগর নয়, নন্দীগ্রামের ১ নম্বর ব্লকও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। রেজিনগরে ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার। এসআইআর তালিকায় নন্দীগ্রাম থেকে বাদ পড়েছিল প্রায় ২৭০০ ভোটার। যা ওই এলাকার ৯৫ শতাংশ। তবে নন্দীগ্রামের ৭৫ শতাংশ হিন্দু ভোটের বড় অংশ বিজেপির পক্ষে যায়। বাকি অংশের অনেকটাই নির্ভর করে সংখ্যালঘু ভোটের উপর। তবে রেজিনগরের ভোটারদের বড় অংশই সংখ্যালঘু। প্রায় ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজেপিকে হারিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেছেন, “ভোট করতে আমরা জানি, ভোট করাতেও আমরা জানি। বিজেপি এমন মার্জিনে জিতবে, যা কেউ কল্পনা করতে পারবে না। সংখ্যালঘুরা ঠিক করুন কার সঙ্গে থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকার জন্য এটা আপনাদের কাছে শেষ সুযোগ।” এর পরই মুখ খুলেছে বিরোধীরা। ঋতব্রত-তৃণমূলের বিধায়ক আখরুজ্জামানের বক্তব্য, “উনি সবার মুখ্যমন্ত্রী। নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের প্রতি হুমকিমূলক বক্তব্য কাম্য নয়। উনি দলের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করলেও, উনি কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। উনি বলছেন, ভাবতে হবে সরকারের সঙ্গে থাকবে কি না। সরকারের সঙ্গে না থাকলে উন্নয়ন হবে না!”
আরও পড়ুন:
আখরুজ্জামান আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের ৫৪ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে ভোট দেয়নি। তাহলে কি উনি এই মানুষগুলোর জন্য কাজ করবেন না?” এদিকে এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহেরের ভাগ্নে শফিউজ্জামান শেখ ঋতব্রত-তৃণমূলের রেজিনগরের প্রার্থী। রেজিনগরের ভোট নিয়ে সেই আবু তাহেরের বক্তব্য, “শফিউজ্জামান নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে নিশ্চয়ই জেতার জন্যই। রবিউল চৌধুরী বিধায়ক ছিলেন, আগের বার টিকিট পাননি, এবার তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়েছে৷ প্রত্যেকেই জেতার জন্যই লড়বেন।” পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানাও করেন তিনি।
কালীঘাট-তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ভয় থেকে এই কথাগুলো বলছেন। তাঁর কথায়, “শুভেন্দু অধিকারী কীসের ভিত্তিতে বলছেন? তৃণমূলকে ভয় পাচ্ছেন বলেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করাচ্ছেন। বলছেন জিতব! আপনি জানেন জেতার অবস্থায় নেই আপনারা। পুরনো মামলায় ডেকে পাঠানো হচ্ছে। রেজিনগরে মাঝরাতে পুলিশ ঢুকছে। এগুলো কেন করছেন?” মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও। তাঁর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, এই শেষ সুযোগ! উনি ভোটের জন্য একশোবার আহ্বান জানাতে পারেন। কিন্তু শেষ সুযোগ বলবেন কেন? যদি সংখ্যালঘুরা ভোট না দেয় ক্ষমা করবেন না? আগে বলেছিলেন, চ্যাংদোলা করে বিধায়কদের কেমন ভাবে ফেলতে হয় জানেন। এটা মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোভা পায় না।” সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা আবার বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী কাউকে পরীক্ষা করতেই পারেন, পাস করবে কী ফেল করবে তার বিষয়। কিন্তু সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু বলে কোনও বিভাজন করতে পারেন না।”
আইএসএফ রেজিনগরে এবার প্রার্থী দেয়নি। তার জন্য সিপিএমকে নিশানা করেছে তারা। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি জানান, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর অসুস্থতার কারণে তাঁরা সিপিএম রাজ্য সম্পাদকের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। সিপিএম নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছিল, বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। কিন্তু পরবর্তীতে কোনও আলোচনা ছাড়াই বামেরা রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে আলাদা করে প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করে দেয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
