প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: দেড় মাসও হয়নি বাংলায় বিজেপি (BJP) সরকার ক্ষমতায় এসেছে।তারই মধ্যে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে শনিবার উত্তাল হল পূর্ব বর্ধমানের (Bardhaman) জামালপুর (Jamalpur)। দুই বিজেপি কর্মীকে মারধোর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ এনে দলেরই এক মণ্ডলের সভাপতিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিজেপির ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে বহু পুরুষ ও মহিলা এদিন থানার সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নিয়ে এই বিক্ষোভ সামাল দেয়। এই ঘটনা জামালপুরের রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি প্রধানচন্দ্র পালের সঙ্গে একই মণ্ডলের সহ-সভাপতি সুশান্ত মণ্ডলের দ্বন্দ্ব এখন চরমে। অতিরিক্ত দামে বালি খাদান থেকে বালি বিক্রি হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করা নিয়ে সুশান্ত মণ্ডলের অনুগামীদের সঙ্গে প্রধানচন্দ্র পাল ও তার সাগরেদদের বিরোধ এখন চরমে উঠেছে বলে জানা গিয়েছে। সুশান্ত ঘনিষ্ট দুই বিজেপি কর্মীকে মারধোর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই সেই দ্বন্দ্বে কার্যত ঘৃতাহুতি পড়েছে।
সুশান্ত মণ্ডলের অনুগত বিজেপি কর্মী অসীম বিশ্বাস এদিন জামালপুর থানার সামনে দাড়িয়ে তার দলেরই মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পালের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। অসীম জানান, জামালপুরের একটি বালি খাদান কর্তৃপক্ষ বেশী দামে বালি বিক্রি করছে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি আন্দোলন করেন এবং ওই বালি খাদান বন্ধ করে দেন। প্রধানচন্দ্র পাল যেহেতু ওই বালি খাদান থেকে কাটমানি তুলতেন, তাই নাকি বালি খাদানটি বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানার পর থেকেই তার উপর তিনি চটে ছিলেন। এই কারণে আলোচনা সভায় ডেকে তাকে অনেক মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন অসীম। গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে থানাতে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
অপর বিজেপি কর্মী সুধীর মণ্ডল নিজেকে জামালপুরের বত্রিশ বিঘা গ্রামের ১৩৭ নম্বর বুথের বুথ সভাপতি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি অসুস্থ। আমার বুকে ’পেসমেকার’ বসানো আছে।সেই অবস্থার মধ্যেই আমি দলের দায়িত্ব সামলে যাচ্ছি। কয়েকদিন আগের বৃষ্টিতে আমাদের বত্রিশ বিঘা গ্রামের এক দরিদ্র ব্যক্তির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ব্যক্তিকে যাতে একটি সরকারী ত্রিপল দেওয়া হয়, তার জন্য আমি ওই ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জামালপুর বিডিও অফিসে যাই। তখন বিডিও অফিসেই মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল ও মহেশ নামে এক যুবক ছিল। আমাকে দেখেই প্রধানচন্দ্র পাল ও মহেশ মিলে আমাকে ধরে মারধোর শুরু করে। মারতে মারতে আমাকে প্রাধানচন্দ্র পালের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানেও আমাকে মারধোর করা হয়।”
এমন অভিযোগ তুলে এদিন প্রধানচন্দ্র পালকে গ্রেপ্তার করে কড়া শাস্তি দেওয়ার দাবিতে সরব হন সকল বিক্ষোভকারী। এই প্রসঙ্গে বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্মৃতিকনা বসুকে ফোন করা হলে তিনি বলেন,“কি ঘটনা ঘটেছে তার বিস্তারিত কিছু আমি এখনও জানিনা। আমাকে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।”
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল। জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার বলেন, “এদিন যারা জামালপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে তারা বিজেপির কেউ নয় বলেই আমি মনে করি। প্রকৃত বিজেপির কেউ এমন কাজ করতে পারে না।” ঘটনার দরুন আগামীকাল পালটা প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন প্রধানচন্দ্র পাল।
