জসিমুদ্দিন আহম্মদ, পুরাতন মালদা: স্বামী রেলকর্মী। তবু অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতাপ্রাপকদের তালিকায় পাওয়া গেল এক বিজেপি কাউন্সিলারের নাম। এমনকি কাউন্সিলারের মেয়ের নামও রয়েছে। এই তালিকা সোমবার সকাল থেকে সামাজিক মাধ্যমে (Social Media) ভাইরাল হয়েছে। পোস্টটিতে তাঁদের নাম লাল দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা রয়েছে। জানা গিয়েছে, পুরাতন মালদা (Outdated Malda) পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বাসন্তী রায় ও তাঁর মেয়ে সুস্মিতা রায়ের নাম অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের তালিকায় রয়েছে। এদিকে কাউন্সিলারের স্বামী লব রায় একজন রেলকর্মী। নতুন সরকার আসার পর রাজ্যজুড়ে যখন মহিলারা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা না পাওয়া নিয়ে সরব, সেই আবহে এমন ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে কি বিজেপির কাউন্সিলার হওয়ার সুবাদেই এই সুবিধা? বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন বাসন্তী নিজেও। তিনি জানান, একবার ভাতার টাকা তিনি পেয়েছেন।
প্রথম পর্যায়ে কিছু মহিলা টাকা পেলেও অনেকে পাননি বলে পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে। তাঁরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করে, লাইনে দাঁড়িয়ে নানা নথি জোগাড় করে অফলাইনে কিংবা অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ করতে থাকেন। এরপরও অনেকে ‘আন্ডার প্রসেস’ কিংবা ‘পেন্ডিং’-এর গণ্ডিতে আটকে যান। প্রথম দু’মাসের টাকা পেয়ে অনেকে আবার তারপর আর পাননি। এর জেরে ক্ষোভ আছড়ে পড়ে ও মহিলারা রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ করেন। পুরাতন মালদা পুরসভার গেটে তালা দিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল খোদ বিজেপি। পদ্মের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ তোলেন, তৃণমূল (TMC) পরিচালিত পুরসভার কাউন্সিলাররা পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করছেন। বিজেপি সমর্থকদের বঞ্চিত করে তৃণমূলিদের ভাতার তালিকায় নাম তোলা হচ্ছে।
এখন মালতী মণ্ডল নামে এক বধূ বললেন, ‘আমাদের দুটি ঘর ও একটা রান্নাঘর রয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে তথ্য যাচাইও করে গিয়েছে, কিন্তু আজও আমাদের নাম ভাতাপ্রাপকদের তালিকায় এল না। অথচ কাউন্সিলার নিজেই ভাতা পাচ্ছেন। তাঁর স্বামী রেলকর্মী। তারপরেও কীভাবে ভাতা পান তিনি?’ অন্যদিকে হেমলতা পাল নামে আর এক বধূ পরিচারিকার কাজ করেন। তাঁর স্বামীও শ্রমিকের কাজে সামান্য আয় করেন। তাঁর কথায়, ‘আজ অবধি টাকা আমরা পেলাম না। অথচ কাউন্সিলার পাচ্ছেন। তাহলে আমাদের কেন বঞ্চিত করা হচ্ছে?’ এ নিয়ে কাউন্সিলার তথা বিজেপির পুরাতন মালদা নগর মণ্ডল সভাপতি বাসন্তীর সাফাই, ‘সরকারি চাকরি যাঁরা করছেন, তাঁদের অনেকেই ভাতা পাচ্ছেন। আমিও একবার পেয়েছি, এখন আর পাচ্ছি না। শুনেছিলাম যেসব মহিলা চাকরি করেন, তাঁরা পাবেন না। কিন্তু এখন শুনছি বাড়ির কর্তা চাকরি করলেও পাবেন না। তবে সরকারিভাবে এর সুবিধা পেলে আমরা ওয়ার্ডের বিভিন্ন কাজে লাগাতে পারতাম।’
তবে স্থানীয়দের দাবি, জনপ্রতিনিধি হয়ে বাসন্তী কি নিজেই সরকারি নিয়ম সঠিকভাবে জানেন না? এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রতাপ সিংহ বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা যে কেউ পেতে পারেন। জনপ্রতিনিধি বা সাধারণ মানুষের জন্য আলাদা নিয়ম নেই। তবে যোগ্যতা না থাকলে পাবেন না।’

