Commonwealth Video games judo gold | জুডোর ম্যাটে সোনালী ইতিহাস! কমনওয়েলথ গেমসে কানাডার প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে সোনা এনে দিলেন ত্রিপুরার অস্মিতা  

Commonwealth Video games judo gold | জুডোর ম্যাটে সোনালী ইতিহাস! কমনওয়েলথ গেমসে কানাডার প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে সোনা এনে দিলেন ত্রিপুরার অস্মিতা  

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ভারতীয় ক্রীড়াজগতে আজ এক ঐতিহাসিক ও সোনালী দিন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কমনওয়েলথ গেমসে জুডোর ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সোনা জিতে নিলেন ২৩ বছর বয়সি উদীয়মান জুডোকা অস্মিতা দে (Commonwealth Video games judo gold)। শুক্রবার অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে তিনি কানাডার শক্তিশালী প্ৰতিদ্বন্দ্বী হেইদি কুয়াচকে পরাস্ত করে এই অনন্য কীর্তি স্থাপন করেন। শুধু অস্মিতাই নন, এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হর্ষ সিংও ফাইনালে সোনা জিতে দেশের ঝুলিতে আরও একটি সাফল্য এনে দেন। এর ফলে একদিনেই পরপর দুটি সোনা এল ভারতের ঘরে এবং এই টুর্নামেন্টে ভারতের মোট সোনার পদক বেড়ে দাঁড়াল পাঁচে। একই দিনে অস্মিতা ছাড়াও আরও এক জুডোকা-সহ মোট ছয়জন ক্রীড়াবিদের পদক নিশ্চিত হয়েছে।

ফাইনালের মঞ্চে ওঠার আগে অস্মিতা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে একের পর এক বাধা টপকেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি স্কটল্যান্ডের এভা এউইংকে পরাজিত করেন এবং সেমিফাইনালে স্বদেশি সুমের শ-কে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করেন।

উল্লেখ্য, কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে এর আগে জুডো ডিসিপ্লিনে ভারতের ঝুলিতে পাঁচটি রুপো এবং ছ’টি ব্রোঞ্জ পদক এলেও কখনও কোনো সোনা আসেনি। ১৯৯০ সালের কমনওয়েলথ গেমসে প্রথম ভারতীয় জুডোকা হিসেবে পদক জিতেছিলেন নরেন্দ্র সিং। এছাড়া সুশীল লিকমাবাম একমাত্র ভারতীয় জুডোকা হিসেবে ২০১৪ এবং ২০২২ গেমসে দুটি রুপো জিতেছিলেন। কিন্তু অধরা সেই সোনার পদক জয়ের খরা কাটিয়ে ইতিহাস গড়লেন অস্মিতাই। অস্মিতার এই সোনা জয় ছাড়াও এ দিন আরও দুই জুডোকা হর্ষ সিং এবং যামিনী মৌর্য ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন।

দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়া মহকুমার অত্যন্ত সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন অস্মিতা দে। তাঁর বাবা পেশায় একজন সাইকেল মেকানিক। তীব্র আর্থিক অনটন এবং হাজারো প্রতিকূলতাকে জয় করেই তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।

প্রাথমিকভাবে অ্যাথলেটিক্সে ৮০০ মিটার দৌড় দিয়ে খেলাধুলা শুরু করলেও, ২০১৫ সালে ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলে যোগ দেওয়ার পর কোচের পরামর্শে তিনি জুডোতে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করেন। এরপর জাতীয় স্কুল গেমস এবং খেলো ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফর্ম করার সুবাদে ভোপালের সাই (SAI) আঞ্চলিক কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। এখনও তিনি সেখানেই নিবিড় অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে এশিয়ান ওপেন, জুনিয়র এশিয়া কাপ এবং কমনওয়েলথ জুডোতে পদক জয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও, আজকের এই সোনা জয় তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় এবং উজ্জ্বলতম মুহূর্ত।

জুডোর পাশাপাশি বক্সিং রিংয়েও ভারত একের পর এক পদক নিশ্চিত করেছে। মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগে ওয়েলসের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দী রোসি একলেসকে ৪-০ ফলে অনায়াসেই হারিয়ে চমক দিয়েছেন অরুন্ধতী চৌধরি। এছাড়া জৈস্মিন লম্বোরিয়া (৫৭ কেজি) তাঁর দাপুটে পারফরম্যান্সে রেফারিকে খেলা থামাতে বাধ্য করেন। জাদুমণি সিং (৫৫ কেজি) নামিবিয়ার পিএম হাওসেবকে ৫-০ ব্যবধানে এবং প্রীতি পওয়ার (৫৪ কেজি) জাম্বিয়ার ক্যাথরিন এমওয়াপেকে একই ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করেছেন। এছাড়া অন্তিম পঙ্ঘালও (৮০ কেজি) ফাইনালে উঠেছেন। সবমিলিয়ে আজকের দিনটি ভারতীয় ক্রীড়ামোদিদের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে রইল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *