‘গুরু’ নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকবিহ্বল শাহরুখ খান। এইমুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘কিং’য়ের শুটিংয়ে ব্যস্ত বাদশা। বৃহস্পতিবার ইন্ডাস্ট্রির অগ্রজ অভিনেতার প্রয়াণের খবর পেয়ে সেখান থেকেই আবেগঘন বার্তায় নানার স্মৃতিচারণ করেছিলেন বাদশা। এমন আবহেই চর্চায় শাহরুখ-নানা পাটেকরের এক অজানা কাহিনি।
বাদশা তখনও ‘বলিউড কিং’ হয়ে ওঠেননি। এক সহ-অভিনেত্রীকে জড়িয়ে তাঁর নামে জনপ্রিয় এক বিনোদন ম্যাগাজিনে চটুল খবর বেরিয়েছিল। রাতারাতি সেই খবর মায়ানগরীর সেলেবপাড়ার গসিপ টেবিলের আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:

কেরিয়ারের গোড়ায় এক সাংবাদিককে চড় কষিয়ে শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছিল বাদশার। সেসময়ে কীভাবে ‘মসিহা’র মতো জেল থেকে শাহরুখকে বের করেছিলেন নানা? সেই অজানা গল্পই বর্তমানে চর্চার শিরোনামে। বাদশা তখনও ‘বলিউড কিং’ হয়ে ওঠেননি। এক সহ-অভিনেত্রীকে জড়িয়ে তাঁর নামে জনপ্রিয় এক বিনোদন ম্যাগাজিনে চটুল খবর বেরিয়েছিল। রাতারাতি সেই খবর মায়ানগরীর সেলেবপাড়ার গসিপ টেবিলের আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। যার জল গড়িয়েছিল শাহরুখের সংসারেও! ওই মুচমুচে গসিপ খবরের জেরে গৌরীর সঙ্গে তুমুল অশান্তি শুরু হয় বাদশার। রাগে-অভিমানে সেদিন ওই সাংবাদিককে গিয়ে চড় কষিয়েছিলেন শাহরুখ। আর সেকারণেই একরাত জেলে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। এই কাহিনি সম্পর্কে এযাবৎকাল অনেকে অবগত থাকলেও তার পরের অধ্যায়ে কী ঘটেছিল? সেটা অনেকের কাছেই অজানা।
“অনেকেই সাহায্যের কথা মনে রাখেন না। বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যান। তবে শাহরুখ ভোলেনি। ও আমার সন্তানসম। ও কিন্তু সেদিনের কথা আজও মনে রেখেছে।”

শাহরুখকে যখন জেল থেকে কাউকে ফোন করতে বলা হয়, তখনও তিনি থামেননি। ফের ওই সাংবাদিককে ফোন করেই গালিগালাজ করেন। পরিস্থিতি আরও চরমে ওঠে। ঠিক এসময়েই খবর পেয়ে ত্রাতার মতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন নানা পাটেকর। তিনিই শেষমেশ থানা-পুলিশ করে শাহরুখকে জেল থেকে বের করিয়ে আনেন। পরবর্তীতে নানাও এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, “অনেকেই সাহায্যের কথা মনে রাখেন না। বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যান। তবে শাহরুখ ভোলেনি। ও আমার সন্তানসম। ও কিন্তু সেদিনের কথা আজও মনে রেখেছে।” ‘রাজু বন গয়া জেন্টল ম্যান’, ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ মাত্র দুটো সিনেমাতেই একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন নানা পাটেকর এবং শাহরুখ। কিন্তু ‘গুরুসম’ অগ্রজ অভিনেতার সঙ্গে বরাবর আত্মীয়তা বজায় রেখেছিলেন বাদশা। সেকারণেই শোকবার্তায় নানাকে ‘আমার হিরো-অভিনেতা’ বলে সম্বোধন করে শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপন করেছেন শাহরুখ খান।
স্মৃতির সরণিতে ফিরে গিয়ে বাদশা লেখেন, “ওঁর সঙ্গে যখন প্রথম দেখা হয়, তখন বিস্ময় ও অস্বস্তির কারণে আমি বারবার নিজের চুলে হাত দিচ্ছিলাম। উনি আমার হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘নায়কদের মতো চুল কোরো না… তুমি না একজন অভিনেতা!’ নানা তোষামোদ করতেন না। আপনি যা শুনতে চাইতেন, উনি তা বলতেন না। আপনার যা শোনা প্রয়োজন, উনি ঠিক সেটাই বলতেন। এমনই ছিলেন নানা পাটেকর। সোজাসাপটা। কঠোর অথচ সৎ, আর ওঁর হাসিটা ছিল অপূর্ব। ভালোবাসা প্রকাশের ধরনটাও অবশ্য ছিল একটু অন্যরকম। প্রথমে হয়তো উনি আপনার উপর চিৎকার করবেন, কিন্তু তিন-চারবার কড়া কথা শোনার পরই কখন যে জড়িয়ে ধরতেন। তিনি আমাকে ভালোবাসতেন, আমিও তাঁকে ভালোবাসতাম। উনি যেমন একাধারে আমার পরামর্শদাতা, শিক্ষক, সমালোচক ছিলেন, তেমনই বন্ধুও ছিলেন— যিনি ক্যারাম খেলায় আমাকে এবং আশেপাশের সকলকে হারিয়ে আনন্দ পেতেন।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
