বৃহন্নলা সেজে একটি ভাড়া বাড়িতে দিব্যি দিন কাটাচ্ছিলেন ৪ বাংলাদেশি। খবর জানাজানি হতেই পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে রঘুনাথপুরের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখে। এবার তাদেরই নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর চূড়ান্ত তোড়জোড় শুরু করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শুক্রবার উপযুক্ত নিরাপত্তায় ওই চারজনকে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে নদিয়ার হরিণঘাটায় বিএসএফ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়।
দীর্ঘদিন ধরে পুরুলিয়া শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে বৃহন্নলার ছদ্মবেশে লুকিয়ে ছিলেন চারজন। তাঁদের নাম মহম্মদ জাহিদ ইমন, মহম্মদ তৌহিদ মন্ডল, শান্ত হোসেন ও সুমন শেখকে। শাড়ি পরা ওই চারজনের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় রঘুনাথপুর শহরের এক বৃহন্নলাই এই তথ্য ফাঁস করে দেন রঘুনাথপুর থানার পুলিশের কাছে। তাতেই শিল্প শহর রঘুনাথপুর থেকে পুলিশের জালে ধরা পড়েন একজন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকিদের সন্ধান পায় পুলিশ। এতদিন পর্যন্ত পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের ডিটেনশন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল ওই চার ব্যক্তি মহম্মদ জাহিদ ইমন, মহম্মদ তৌহিদ মণ্ডল, শান্ত হোসেন ও সুমন শেখকে। জানানো হয়, বিধি মেনে তাঁদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হবে।
আরও পড়ুন:
এনিয়ে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, ‘‘কোনও অনুপ্রবেশকারী ছাড় পাবে না। এই বিষয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেমন বলে দিয়ে গিয়েছেন। তেমনই কাজ করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাঁটাতার দেওয়া হয়ে গিয়েছে। যেটুকু ফিনিশিং বাকি আছে সেই কাজও হয়ে যাবে। খুঁজে খুঁজে বের করা হবে। কোনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ছাড়া যাবে না। যা তাদের সঙ্গে ব্যবহার করার কথা প্রশাসন সেটাই করবে। এটা মোদিজির সরকার চলছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও আইনি প্রোটোকল মেনে চলতেই এই উদ্যোগ। কড়া পুলিশি পাহারায় তাঁদের নদিয়ার হরিণঘাটায় থাকা ব্যাটেলিয়ন সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
