মমতার দুর্দিনে বেসুরে গাইছেন বাবুলও! রাজনীতিতে সবই ন্যায্য দেখছেন সুপ্রিয়?

মমতার দুর্দিনে বেসুরে গাইছেন বাবুলও! রাজনীতিতে সবই ন্যায্য দেখছেন সুপ্রিয়?

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


ভোটের ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসে ধস নেমেছে। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই একরকম কোণঠাসা করে নব্য তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা হয়েছেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য রাজনীতিরর অন্দরে বিতর্কের ঝড়। এই আবহে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন বাবুল সুপ্রিয়। তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙনের রাতেই সমাজ মাধম্যে দীর্ঘ পোস্ট করে তিলি লেখেন, “নিজের দলের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়ার পূর্ণ অধিকার আপনার আছে। আমিও তা করেছি। সেই অবস্থানকে সম্মান জানাতে হলে সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত। কারণ, আপনি দলের প্রতীক,নেতৃত্ব ও ব্যানারের অধীনে ভোটে লড়েছিলেন।” একইসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিয়ে বাবুল লিখেছেন, “দিদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে যারা দুর্নীতি, সরকারি তহবিল তছরুপ বা সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের হাত-পা কেটে না ফেলে তিনি নিশ্চয়ই গুরুতর ভুল করেছেন। এখন তাদের অনেকেই সেই ‘৬০ জনের’ তালিকায় আছেন। অন্যদের হয় ভোটে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা তারা জেলে যাচ্ছেন।”

এই বিষয়ে আরও খবর

তিনি আরও লেখেন, “কিন্তু একজন ব্যক্তি আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছেন! কখনও জানতাম না যে একটি সাপ মানুষের ছদ্মবেশে আমাদের সবার মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। আশা করছি ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি অনেক রাজ্যের মতো এদেরকেও নিজেদের দলে নেওয়ার মতো ভুল করবে না।” 

বাবুলের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন গায়ক ও রাজনীতিবিদ বাবুল সুপ্রিয়। আসানসোল থেকে দু’বারের সাংসদ। মোদী সরকারের অধীনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্বও পান তিনি। ৭ বছর কাটতেই পদ্মের মোহ কাটিয়ে ঘাসফুল নাম লেখান বাবুল। ২০২২ সালে বালিগঞ্জের উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ। ছাব্বিশে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভায় সাংসদ পদ। বাবুলের রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ আসা-যাওয়া যে সম্পূর্ণ জনস্বার্থে। তা মানতে নারাজ ওয়াকিবহাল মহলের একাংশই।  ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে বারবার ফুল বদল ফেলা বাবুল, এখন তৃণমূল কংগ্রেসের দুঃসময়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন! বিশেষ সূত্রের খবর, ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলার রাশ বিজেপির হাতে যাওয়ার পর পরই দিলীপ ঘোষকে ফোন করেন বাবুল সুপ্রিয়। তবে ‘দলবদলু’ বাবুল এখনই তাঁকে আমল দিতে চায় না বিজেপি। বাবুলের কথায়, “প্রেম ও যুদ্ধে সবকিছুই ন্যায্য এবং এটা রাজনীতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।” 

ক্ষমতার অলিন্দে থাকাকালীন মমতা নামক গ্রহকে কেন্দ্র করে উপগ্রহের মতো তার চারপাশে ঘুরে বেড়াতেন যাঁরা। সুখের পায়রা হয়ে নীল-সাদা নবান্নের বারান্দায় বসে গান গেয়েছেন যাঁরা। তাঁরাই এখন নিজের আখেড় গোছাতে বেসুরো সুর ধরলেন? এখন মমতার ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই সবকিছুতেই ন্যায্য দেখছেন বাবুল? ঋতব্রতদের দল ভাঙানোও তার মানে ন্যায্য বলে মনে করছেন তিনি? 

এই বিষয়ে আরও খবর

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *