সামসী: স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গ্রন্থাগারিক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের অভাবে চরম সঙ্কটের মুখে পড়েছে মালদার সামসী বীণাপাণি টাউন লাইব্রেরি (Samsi Library)। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী পাঠাগারটি বর্তমানে মাত্র একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর ভরসায় চলছে, যা স্থানীয় বইপ্রেমী ও পাঠকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
লাইব্রেরি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে এই গ্রন্থাগারে প্রায় ১২ হাজার দুর্লভ ও প্রয়োজনীয় বই রয়েছে এবং প্রায় এক হাজার নিবন্ধিত পাঠক রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০ জন পাঠক এখানে এলেও, লাইব্রেরিয়ান, সহকারী লাইব্রেরিয়ান এবং বুক বাইন্ডারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য (Employees Scarcity)। ২০১৭ সালে শেষ লাইব্রেরিয়ান অবসর নেওয়ার পর থেকে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় সামগ্রিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। লাইব্রেরির একমাত্র কর্মী মতিউর রহমান জানান, নিজস্ব সুদৃশ্য ভবন ও বিশাল পাঠকক্ষ থাকা সত্ত্বেও সঠিক লোকবলের অভাবে প্রশাসনিক ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে।
স্থানীয় শিক্ষক সরোজকুমার সাহা ও পাঠকদের একাংশের আক্ষেপ, জ্ঞানচর্চার এই কেন্দ্রটি আজ অবহেলার শিকার। ডিজিটাল যুগেও নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম, কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। সামসী এগ্রিল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শৈলেশ পান্ডে জানান, পাঠাগারটি সচল রাখতে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
কর্মী সঙ্কটের বিষয়টি জেলা গ্রন্থাগারিকের নজরে আনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনও সুরাহা মেলেনি। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দান করা জমিতে গড়ে ওঠা এই লাইব্রেরির ঐতিহ্য রক্ষায় এবং দ্রুত শূন্য পদ পূরণের দাবিতে এখন সোচ্চার সামসীর সচেতন নাগরিক সমাজ।
