অভিনয়
মণিদীপা বিশ্বাস কীর্তনিয়া
চমৎকার অভিনয়
যতদূর উড়েছে ডানা
তারও চেয়ে বেশি যেতে পারো
তীক্ষ্ণ সংলাপ জুড়ে দিল মঞ্চ
ফর্সা অহংকার আরও একটু উঁচু লাগছে
লিকার রঙের ফ্রেম মানিয়েছে ভালো
পর্দার এধারে অপমান তখনও দাঁড়িয়ে
দমচাপা গ্রিনরুম ঝাঁঝালো আয়না
মেকআপের অপ্রতিভ আড়ালে রেখেছে
পুরু চশমায় ঢাকা ভিতু কাজল
হলভর্তি টানটান দর্শক
আবহে জলের শব্দ
মেঘে মেঘে আলোকসম্পাত
ফিরে আসার রাস্তাও রক্ত প্রবালময়
নাটকের শেষে হা-হা করে হাসছো
জমকালো রিহার্সাল ঢেকে দিচ্ছে
তোমার রাংতা জড়ানো রাত… মিথ্যে ও ভয়
শরৎ
প্রশান্ত দেবনাথ
মাথার ওপর দিয়ে
তুলার নৌকোর মতো ভেসে যায় মেঘ
কাশের দোলায় হাসে জ্যোৎস্নামাখা নোনাইয়ের চর
কাশদণ্ডে লিখে যান কেউ শরতের মহিমা
আমাদের হতাশার ভিতর ক্রমশ ঢুকে পড়ে
শিউলি ফুলের ঘ্রাণ
ভেজা ঘ্রাণে হাওয়া মাতাল
হাওয়া ঘুঘুর মতো জাগিয়ে তোলে স্মৃতি
আঁতিপাঁতি খুঁজে ফিরি শৈশবের
পথরেখা, খুঁজে ফিরি সেই মহালয়ার ভোর
ভিজতে চাই আগমনী সুরে
ঢাকের শব্দে চমকে উঠে
আনমনে আমরা বুঁজি দুই চোখ
জেগে ওঠে দূরের শহর, জেগে ওঠে স্বজনের ছায়া
ঘুমভাঙা মাঝরাতে কাছে ডাকে বইগ্রাম
কাছে ডাকে পাহাড়ের শীর্ষ
ছুঁয়ে যায় মায়াবী আঙুল…
বহিরাগত
মৃড়নাথ চক্রবর্তী
তুমি ব্রহ্মদেশ ছেড়ে ব্রহ্মপুত্রের জলে
সাঁতরে এসেছ- বহুদিন হল
গোর্খাদেশ ছেড়ে পালিয়ে এলে যখন
তিস্তার কামড়ে তোমার ভাঙা ডিঙি
সারিয়ে দেয়নি কেউ- তাও বহুদিন হল
শুকনো পাহাড় আর শুকনো মাটি ছেড়ে
সিংভূম-মানভূম ছেড়ে যখন পালিয়ে এলে
এদিকে তাকাও-
তোমার চোখ তখনও শুকনো ছিল?
খাসি পাহাড়ের তলে, গারো পাহাড়ের তলে
তোমার জীবাশ্ম এখনও চাপা আছে
অথচ তুমি ভাবো নিশ্চিন্তে একটা ভাতঘুম চাই
চাই এক টুকরো কাজ, আর… আর কিছু না
পালিয়ে পালিয়ে পালিয়ে- তোমার ক্লান্ত লাগে না?
তোর্ষার পলিতে একটু দাঁড়াও,
একটু শক্ত পায়ে দাঁড়াও- হিসেব করো
বহিরাগতের সংজ্ঞা বানায় কারা? কখন? কেন?
এ মাটি তোমারও মাটি
কাশ্মীর থেকে কামরূপ, অযোধ্যা থেকে আন্দামান
কেউ তো বহিরাগত নয়
বসন্ত রঙের সকাল
বিপুল আচার্য
দৌড়াতে থাকি যেভাবে রঙিন চাদর ছুঁয়ে
তাতে তথ্য গোপন থাকে না নিরিবিলি বার্তালাপে…
ঠোঁট পর্যন্ত হেঁটে থমকে দাঁড়ালে
উপোসি মনে হয় নিদারুণ দুপুরে
এই যে একটা ভালোবাসার চাঁদ
কপাল ঘাম মুছে দেয় জ্যোৎস্না রাত্তিরে
ওসব বলা থাকে না চাওয়া পাওয়ার হিসেবে
এসব বরং শিখিয়ে দেয় মুক্তির কথা, তাই
চুপচাপ ধ্যানমগ্ন রই বসন্ত রঙের সকালের কাছে…
আমার জন্য
মীনাক্ষী দেবনাথ
অভিশাপ মুক্ত হবো, বাঁচব নিজের মতো করে-
সেদিন আকাশটাকে দেখব অনেক সময় ধরে।
সেদিন সকাল হবে আমার জন্য
সারাটা দুপুর আমার জন্য
গোধূলি বেলা আমার জন্য
গভীর রাতে স্বপ্ন দেখা আমার জন্য
আমার জন্য মুক্ত জানলা, ফুল, বাতাস, রোদ,
শরতের হিম ভেজা ঘাস,
শিউলি ঝরবে আমার জন্য;
আর পাঠিয়ে দেব ভোরের আলো
সবার জন্য।
The submit কবিতা appeared first on Uttarbanga Sambad.
