উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাতে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও সকালে বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে করে না? সারাদিন শরীরে একটা ঝিমুনি ভাব আর ক্লান্তি ঘিরে থাকে? যদি মাসের পর মাস এমনটা চলতে থাকে, তবে তা অবহেলার নয়। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে থাইরয়েডের সমস্যা বা রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) থাকলে এমন অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজ়ম থাকলে ক্লান্তি ও ঝিমুনি ভাব বেশি প্রকট হয়। আবার রক্তে আয়রনের মাত্রা কমে গেলেও অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠার মতো সমস্যা তৈরি হয়।
তবে এই সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে যোগব্যায়ামেই। এর জন্য আলাদা করে বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসেই সেরে নিতে পারেন সহজ কিছু আসন। এতে থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং দিনভর শরীর থাকবে সতেজ।
ক্লান্তি দূর করতে কার্যকরী ৫টি আসন:
১. সুপ্ত মৎস্যেন্দ্রাসনা: প্রথমে শবাসনে শুয়ে হাত দু’পাশে টানটান রাখুন। ডান হাঁটু ভেঙে বাঁ হাত দিয়ে ধরুন। এবার ডান হাঁটুটি আপনার বাঁ দিকে নিয়ে যান এবং শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। ১ থেকে ১০ গুনে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। একইভাবে অন্য পায়েও এটি করুন।
২. আপনাসন: টানটান হয়ে শুয়ে শ্বাস টেনে দুই হাঁটু বুকের কাছে নিয়ে আসুন। দুই হাত দিয়ে হাঁটু এমনভাবে চেপে ধরুন যাতে পেটে চাপ পড়ে। ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পা সোজা করুন। প্রতিদিন ৫-১০ বার এই অভ্যাস করুন।
৩. আনন্দ বালাসন: শোওয়া অবস্থায় দুই পা বুকের কাছে আনুন, পায়ের পাতা থাকবে ছাদের দিকে। দুই হাত দিয়ে পায়ের পাতা ধরে হাঁটু দুটি দু’দিকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন। এবার এই অবস্থায় কোমর থেকে একবার বাঁ দিকে ও একবার ডান দিকে দোল খান। অন্তত পাঁচবার এটি করুন।
৪. ব্রিজ় পোজ় (সেতু বন্ধাসন): পিঠ ঠেকিয়ে শুয়ে দুই হাঁটু ভাঁজ করুন। এবার পিঠ ও কোমরে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে কোমর উপরের দিকে তুলুন। ২০ সেকেন্ড এই ভঙ্গিতে থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন।
৫. সুপ্ত বদ্ধ কোণাসন: সোজা হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করুন। দুই পায়ের পাতা একটির সঙ্গে অন্যটি জোড়া করে হাঁটু দুটি দু’পাশে নামিয়ে রাখুন (প্রজাপতির ডানার মতো)। চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিন। ৫-১০ মিনিট এই অবস্থায় থাকলে স্নায়ু শান্ত হয় এবং ক্লান্তি দূর হয়।
