Minab | ‘মিনাব শহরের স্কুলে হামলা সুপরিকল্পিত!’ রাষ্ট্রপুঞ্জে আমেরিকা-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল ইরান

Minab | ‘মিনাব শহরের স্কুলে হামলা সুপরিকল্পিত!’ রাষ্ট্রপুঞ্জে আমেরিকা-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল ইরান

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দক্ষিণ ইরানের মিনাব (Minab) শহরের সেই অভিশপ্ত স্কুলের স্মৃতি আজও টাটকা। টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গুঁড়িয়ে যাওয়া সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৭৫ জন নিরপরাধ পড়ুয়া ও শিক্ষক। শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) মানবাধিকার পরিষদে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত যুদ্ধ অপরাধ’ হিসেবে দেগে দিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

হামলার পর আমেরিকা ও ইজরায়েল প্রাথমিকভাবে একে ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ বলে দায় সারার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আরাঘচি এদিন স্পষ্ট জানান, এটি কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ ছিল না, বরং বেছে বেছে স্কুলটিকেই নিশানা করা হয়েছিল।

“আমেরিকা ও ইজরায়েল যতই বিষয়টিকে লঘু করার চেষ্টা করুক, তথ্য বলছে এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। কোনো নিষ্ঠুরতাকেই ‘ভুল’ বলে ধামাচাপা দেওয়া যায় না।” — আব্বাস আরাঘচি, বিদেশমন্ত্রী, ইরান।

আরাঘচির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় নিজেদের দোষ ঢাকতে শুরুতে ইরানের (Iran) দিকেই আঙুল তুলেছিল ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ। কিন্তু খোদ মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টেই পরবর্তীতে এই হামলার দায় স্বীকারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবুও সরাসরি দায় নিতে নারাজ দুই দেশ। ইরানের মতে, প্রযুক্তির অজুহাত দিয়ে এই ভয়াবহ গণহত্যাকে আড়াল করার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে আমেরিকা ও ইজরায়েল। সেই দিনটি ছিল ইরানের ইতিহাসে অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন:

  • প্রথম হামলা: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দফতরে হামলা চালানো হয়। এতে নিহত হন খামেনেই-সহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তা।
  • দ্বিতীয় লক্ষ্যবস্তু: খামেনেইয়ের দফতরের পর হামলা চালানো হয় মিনাব শহরের সেই স্কুলে।
  • ক্ষয়ক্ষতি: ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে ছাই হয়ে যায় স্কুলটি। শিক্ষক ও পড়ুয়া মিলিয়ে মোট ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চ থেকে আব্বাস আরাঘচি বিশ্বের সমস্ত রাষ্ট্রের প্রতি উদাসীনতা ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নীরব থাকা মানে এই অপরাধকে সমর্থন করা। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি আরও জোরালো করেছে তেহরান।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *