উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতির দুই মহাশক্তিধর রাষ্ট্রপ্রধানের মুখোমুখি সাক্ষাতে সরগরম বেজিং। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত এক রাজকীয় ভোজসভায় চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping-Trump) গলায় শোনা গেল একাধারে সহযোগিতার আহ্বান এবং প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি। বেজিংয়ের ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ দাঁড়িয়ে শি জিনপিং সাফ জানিয়ে দিলেন, চিন ও আমেরিকার পারস্পরিক সম্পর্কই বিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, তাই এই সম্পর্কে কোনোভাবেই যেন ‘গন্ডগোল’ (Mess up) না হয়।
অনুষ্ঠানে শি জিনপিং এক অত্যন্ত কৌশলী এবং উষ্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ সুর বেছে নেন। ট্রাম্পের (Donald Trump) অত্যন্ত পরিচিত রাজনৈতিক স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর সঙ্গে চিনের জাতীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা ‘গ্রেট রেজুভেনেটিং অফ দ্য চাইনিজ নেশন’-কে একই সুতোয় গেঁথে দেন তিনি। শি-র মতে, এই দুই দেশের সমৃদ্ধির লক্ষ্য একে অপরের পরিপন্থী নয়। বরং দুই দেশ অংশীদার হিসেবে কাজ করলে বিশ্বের ৮০০ কোটি মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সংঘাতের চেয়ে সহযোগিতাই দুই দেশের জন্য লাভজনক।
সৌজন্যের আবহের মাঝেও জিনপিং মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি যে, তাইওয়ান ইস্যুটি চিনের কাছে কতটা স্পর্শকাতর। তিনি বলেন, তাইওয়ান নিয়ে কোনোরকম ভুল পদক্ষেপ একটি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ তৈরি করতে পারে। প্রসঙ্গত, বেজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে, অন্যদিকে আমেরিকা তাইওয়ানকে সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে। এই একবিন্দুতেই দুই দেশের সম্পর্কে বারবার ফাটল ধরেছে। ভাষণে জিনপিং ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা’র ওপর জোর দেন। তাঁর কথায়, “বিশ্ব বর্তমানে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে চিন-আমেরিকা সম্পর্ক কেবল এই দুই দেশের ১৭০ কোটি মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোটা পৃথিবীর শান্তি ও সমৃদ্ধি এই সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই সফরে শি জিনপিংয়ের এই বার্তা আসলে নতুন করে কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা খোঁজার এক প্রচেষ্টা। বাণিজ্য যুদ্ধ ও প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধের আবহে এই ‘টোস্ট’ বিশ্ব রাজনীতিতে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
