গাজোল: সরকারিভাবে লিখিত নির্দেশিকা না এলেও, ‘লাইভ স্টক’ পারমিট ছাড়া গাড়ি করে গবাদিপশু পরিবহণে প্রশাসনের মৌখিক নিষেধাজ্ঞার ব্যাপক প্রভাব পড়ল গাজোল গরুহাটে (Gajol Gorur Hat)। মালদা জেলার গাজোলে প্রতি বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের (North Bengal) অন্যতম বড় এই গরুহাট বসে। কিন্তু প্রশাসনের কড়াকড়ির জেরে এদিন হাটে বাইরের জেলার গরু প্রায় আসেনি বললেই চলে। ফলে এক ধাক্কায় ব্যবসা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
হাট সূত্রে জানা গেছে, বর্ধমানের জমিদার দুর্লভ রাম নন্দী চৌধুরী এস্টেটের অধীনে থাকা এই হাটে প্রতি সপ্তাহে গৌড়বঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েকশ মানুষ গরু কেনাবেচা করতে আসেন। সাধারণত ভুটভুটি বা পিক-আপ ভ্যানে করে গরু আনা-নেওয়া করা হয়। কিন্তু প্রশাসনের ধরপাকড়ের আশঙ্কায় এদিন বাইরে থেকে কোনও গাড়ি আসেনি। হাটের কর্মচারী দিলীপ সরকার জানান, অন্যান্য দিন যেখানে ১০০ থেকে ১৫০টি গরু কেনাবেচা হয়, এদিন তা মাত্র ৫০-এ ঠেকেছে।
দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী জাহির আলি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ১০ কিলোমিটারের বেশি পথ গাড়িতে গরু নিয়ে যাওয়া যাবে না। আব্দুল খলিল নামে অপর এক প্রবীণ ব্যবসায়ী জানান, গাড়ি যাতায়াত বন্ধ হওয়ায় মালদা (Malda), উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে আসা ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়েছেন।
বর্তমানে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে হাটের রসিদ বা ‘ছাড়’ দেওয়ার ক্ষেত্রেও নিয়ম বদলানো হয়েছে। এখন একটি রসিদে মাত্র দুটি গরু কেনা যাচ্ছে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা গরু কিনবেন বা বিক্রি করতে আসবেন, তাদের সকলকেই গবাদিপশু হাঁটিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রশাসনের এই নতুন নিয়মে গাজোলের ঐতিহ্যবাহী এই হাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কয়েকশ ব্যবসায়ী ও হাটকর্মী।
