উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তাল ছাড়িয়ে তার ক্বাথ বা পাল্প দিয়ে তালের ফুলুরি, লুচি, পায়েস কিংবা মালপোয়ার মতো সুস্বাদু পদ তৈরির ধুম পড়ে গিয়েছে ঘরে ঘরে। তবে মুশকিল বাধে তখন, যখন রসনা তৃপ্ত হলেও পেট তার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে না। প্রাণভরে তালফুলুরি খাওয়ার পর ‘ভয়াবহ’ অ্যাসিডিটি ও বুকজ্বালার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাল আদতে শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু সমস্যার মূলে রয়েছে রান্নার পদ্ধতি ও খাওয়ার অনিয়ম। ডুবো তেলে ভাজলে ফ্যাটের মাত্রা বেড়ে যায়, যা পাকস্থলীতে হজমের গতি কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি, ময়দা এবং তালের কাঁচা রসের কষাভাব সঠিকভাবে না কাটানোর ফলে বুকজ্বালা ও গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয় (Wholesome Consuming)।
অ্যাসিডিটি এড়িয়ে তাল খাওয়ার উপায়:
কষাভাব দূর করা: তালের পাল্প বার করার পর অল্প আঁচে ১০-১৫ মিনিট ফুটিয়ে বা কষ ঝরিয়ে নিলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
উপকরণ পরিবর্তন: ময়দার বদলে চালের গুঁড়ো বা সুজি এবং চিনির পরিবর্তে গুড় ব্যবহার করা শরীরের পক্ষে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে নেওয়া: ভাজার পর কিচেন টিস্যু বা সুতির কাপড়ে বড়া রেখে দিলে বাড়তি তেল শুষে নেয়, ফলে অ্যাসিডিটির সম্ভাবনা কমে।
সময় ও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: খালি পেটে বা রাতে না খেয়ে দুপুর বা বিকেলে স্ন্যাক্স হিসেবে খান। একবারে অনেক না খেয়ে ৪-৫টি ফুলুরিতেই নিজেকে সীমিত রাখুন।
বিকল্প পদ: অতিরিক্ত তেলযুক্ত বড়া বা লুচির বদলে তালের পায়েস, ভাপানো পিঠে বা কম তেলে তৈরি তালের গোলারুটি বেছে নিতে পারেন।
সঠিক নিয়ম ও পরিমিতিবোধ বজায় রাখলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই শরতের এই ঐতিহ্যবাহী পদের স্বাদ অনায়াসে উপভোগ করা সম্ভব।

