উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ আদালতের নির্দেশে স্বস্তি পেলেন দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাস (Atanu Das)। ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার চার দিন পর সোমবার আলিপুর আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত বাগেশ্বরধামের প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর (Dhirendra Shastri) লিলুয়ার একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। সেখানে পুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে মন্তব্য করার পাশাপাশি বাঙালিদের একাংশকে ‘পাখণ্ডী’ বা ভণ্ড বলে আক্রমণ করেছিলেন এই ধর্মগুরু। যদিও রাজ্য ছাড়ার পর নিজের মন্তব্যের সাফাই দিয়েছিলেন তিনি, ততক্ষণে ওই মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে গোটা রাজ্যে।
ওই মন্তব্যের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার কলকাতার (Kolkata) ভবানীপুর থানার সামনে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস কর্মীরা। সেই সময় ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবিও পোড়ানো হয়। এই ঘটনার পরই আসরে নামেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার ফ্লোর থেকে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সরাসরি নির্দেশ দিয়ে তিনি অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের কথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরই তৎপরতা বাড়ায় কলকাতা পুলিশ। প্রকাশ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, শান্তিভঙ্গ, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরির চেষ্টার মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ভবানীপুর থানা। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ক্ষেত্রমোহন নস্কর লেনের নিজ বাসভবন থেকে অতনু দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন শুক্রবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, এই ধরনের উস্কানিমূলক কার্যকলাপ রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। অন্যদিকে, অতনুর আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন যে প্রতিবাদ জানানো বা মত প্রকাশ করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, ফলে এই গ্রেপ্তারি সম্পূর্ণ বেআইনি। সমস্ত সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত তাঁকে চার দিনের পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আজ আলিপুর আদালত তাঁর জামিনের আর্জি মঞ্জুর করেন। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, আইনের শাসন এবং সত্যেরই জয় হয়েছে এই রায়ে।

