গাজোল: ২০২৬ সালের মাধ্যমিকের (WB Election Consequence 2026) মেধা তালিকায় নজিরবিহীন সাফল্য উত্তরবঙ্গের। ৬৯১ নম্বর পেয়ে রাজ্যে সম্ভাব্য সপ্তম এবং মালদা জেলায় সম্ভাব্য প্রথম স্থান অধিকার করল গাজোল হাইস্কুলের কৃতি ছাত্র কমলেশ সরকার (Kamlesh Sarkar)। তবে কেবল মেধা তালিকায় স্থান পাওয়াই নয়, গণিত চর্চায় ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে সাড়া ফেলেছে গাজোল সরকার পাড়ার এই কিশোর।
কমলেশের প্রাপ্ত নম্বরের তালিকা তার মেধার সাক্ষ্য দেয়। সে বাংলা, ইতিহাস এবং ভূগোল— এই তিন বিষয়েই পূর্ণমান ১০০-তে ১০০ পেয়েছে। এছাড়া ইংরেজি ৯৭ এবং ভৌত বিজ্ঞান ও জীবন বিজ্ঞানে ৯৮ নম্বর পেয়েছে সে। তবে তার আসল নেশা ও ভালোবাসা গণিত। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পরপর দু’বার বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের (IISc) ‘প্রোগ্রাম ইন ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড সায়েন্স’-এর গবেষণা ও কর্মশালায় যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল সে। দেশজুড়ে মাত্র ২৫ জন ছাত্রের মধ্যে সে ছিল অন্যতম। এমনকি গত এপ্রিল মাসের ২ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত চেন্নাই ম্যাথমেটিকাল ইনস্টিটিউটে গবেষণার জন্য ডাক পাওয়া দেশের ৩ জন ছাত্রের মধ্যেও একজন ছিল কমলেশ।
ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথাগত পথে হাঁটার কোনো ইচ্ছে নেই কমলেশের। তার লক্ষ্য অঙ্ক নিয়ে গবেষণা করা। সে বলে, “গণিতের এমন অনেক জটিল সূত্র আছে যা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি, আমি সেই রহস্যভেদ করতে চাই।” ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশের বহু প্রথিতযশা গণিতজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের সংস্পর্শে রয়েছে এই কিশোর।
কমলেশের বাবা ভবানন্দ সরকার করকচ মধুসূদন হাই স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক এবং মা ছবি সরকার গৃহবধূ। তাঁরা জানান, মাধ্যমিকের ধরাবাঁধা পড়া নিয়ে খুব একটা চিন্তিত ছিল না কমলেশ। দিনের বেশিরভাগ সময় অঙ্কের জটিল সমাধান নিয়েই মেতে থাকত। দিদি পূর্বাশা সরকার এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। কমলেশের এই বিশ্বমানের সাফল্যে গাজোল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ননীগোপাল বর্মন-সহ গোটা জেলার শিক্ষামহল গর্বিত।
