Water Disaster | পাইপ ভরেছে আয়রনে, ভর্তি হচ্ছে না ট্যাংক! জলের হাহাকার ময়নাগুড়িতে

Water Disaster | পাইপ ভরেছে আয়রনে, ভর্তি হচ্ছে না ট্যাংক! জলের হাহাকার ময়নাগুড়িতে

ব্লগ/BLOG
Spread the love


বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ি (Mainaguri) শহরের জল সরবরাহের পাইপ ভরে গিয়েছে আয়রনে। যার জেরে চব্বিশ ঘণ্টা পাম্প চালিয়েও ট্যাংক ভর্তি হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই তীব্র গরমে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পানীয় জল না পেয়ে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তাঁদের জীবন (Water Disaster)।

জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর সূত্রের খবর, শহরে ট্যাংক সংলগ্ন তিনটি পৃথক পাম্পহাউস রয়েছে। একটি পাম্পহাউসের পাইপ খুলে দেখা গিয়েছে, সেটির ভেতর আয়রন জমে রয়েছে। যার জেরে ধীর গতিতে বাড়ি বাড়ি জল সরবরাহ হচ্ছে। মঙ্গলবার ঠিকাদার সংস্থাকে দিয়ে পাম্পহাউসের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ পালটানোর কাজ শুরু হয়। কর্মীদের কথায়, তিনটি পাম্পের ট্যাংক সংযোগকারী পাইপ না পালটালে সামনে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হবে। ময়নাগুড়িতে পানীয় জলের সমস্যা আরও তীব্র আকার নেবে। পুরসভার চেয়ারম্যান মনোজ রায় জানিয়েছেন, বিষয়টি জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরকে জানানো হয়েছে।

এই অবস্থায় পুর এলাকার অধিকাংশ নাগরিক জল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শহিদগড়পাড়ার বাসিন্দা পূর্ণিমা দাস বলেন, ‘খুব ধীরগতিতে জল পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি, সকলে জল পান না।’ পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নরেশ চক্রবর্তী আবার জানালেন, গোটা ওয়ার্ডে জল মেলে না।

জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর সূত্রের খবর, বহু বছরের পুরোনো প্ল্যান্ট পাম্পহাউসটি। যার ফলেই এই সমস্যা প্রকট হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়বহুলও বটে। আর্থিক বরাদ্দ না মিললে এই সংযোগ নতুন করে করা সম্ভব নয় এই মুহূর্তে। তবে পাম্পহাউসের সংস্কারের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে।

উত্তরবঙ্গ পিএইচই মেকানিক্যাল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সম্পাদক সুব্রত গুপ্ত বলেন, ‘পাম্পহাউস থেকে জলের ট্যাংক পর্যন্ত লোহার পাইপ আয়রনে ভরে গিয়েছে। তিনটি পাম্পহাউসের একই পরিস্থিতি। ছয় ইঞ্চি গোলার্ধের পাইপ আয়রনে ভরাট হয়ে এক ইঞ্চি হয়ে গিয়েছে। এরপর টানা চব্বিশ ঘণ্টা পাম্প মেশিন চালিয়েও ট্যাংক ভর্তি হয় না। রাত দশটায় পাম্প চালিয়েই অফিস তালাবন্ধ করে কর্মীরা চলে যান। নৈশপ্রহরীও নেই। এরফলেই পরিষেবায় সমস্যা হচ্ছে।’

কয়েক বছর আগেও সকাল সাতটায় পাম্প চালালে সাড়ে দশটার মধ্যে ট্যাংক ভর্তি হয়ে যেত। বিকেলে তিনটায় পাম্প চালালে সন্ধে ছয়টায় ভর্তি হত। কর্মীদের কথায়, এখনই জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ না করলে আগামীদিনে পানীয় জল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। জলের ট্যাংকটি ১৯৭৬ সালের। মোট জল ধারণক্ষমতা পঁয়তাল্লিশ লক্ষ লিটার। গত বেশ কয়েক মাস ধরে চব্বিশ ঘণ্টা পাম্প মেশিন চালিয়েও জলের ট্যাংক ভরাট হয় না। এখন কতদিনে এই সমস্যা মেটে, সেদিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *