প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: বিয়ে হয়েছে এক বছরও হয়নি। দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বাও ছিলেন প্রিয়াংকাকুমারী বৈঠা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়িতেই একটি ঘরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায় তাঁকে। আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জংশন এলাকায় ওই বধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। মৃতদেহের গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ বধূর পরিবারের। খুন করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন তাঁরা। তবে এই বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছেন, এই ঘটনার পিছনে দাম্পত্য কলহই মূল কারণ। বছর চব্বিশের ওই তরুণীর রিলস বানানোর অভ্যাস ছিল। ঘটনার দিন সকালে তা নিয়ে স্বামী সঞ্জীবকুমার বৈঠার সঙ্গে তাঁর ঝগড়াও হয়। তারপর যদিও মান ভাঙানোর চেষ্টা করেছিলেন স্বামী। তারপরেও মানসিক অবসাদেই হয়তো এই পথ বেছে নিয়েছেন সেই বধূ। স্বামীর দাদা বলেন, ‘মোবাইলে ভিডিও বানানো নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অল্প কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তা থেকেই এত বড় ঘটনা ঘটে গেল কি না, বুঝতে পারছি না।’ মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
আলিপুরদুয়ার জংশন ফাঁড়ির ওসি সঞ্জীব বর্মন বলেন, ‘ওই বধূর মৃত্যু নিয়ে এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টও হাতে আসেনি। তাই মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব নয়।’
সেই বধূ আদতে বিহারের বাসিন্দা। বিয়ের পর জংশনে শ্বশুরবাড়িতে থাকছিলেন। একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিহার থেকে ওই বধূর পরিবারের লোকজন আলিপুরদুয়ারে চলে এসেছেন। এদিন আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের মৃতদেহ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। বধূর এক দাদা অরুণকুমার বৈঠা বলেন, ‘আমরা তিন ভাই ও এক বোন। সেই বোনের যে এভাবে মৃত্যু হবে, তা ভাবতে পারছি না।’ তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বাপের বাড়িতে ফোন করে প্রিয়াংকা একটা সমস্যার কথা বলে। তারপর আর ফোন করেনি। তার কয়েক ঘণ্টা পরে মৃত্যুর খবর শুনতে পান তাঁরা। অরুণের প্রশ্ন, ‘আত্মহত্যা করলে আঘাতের চিহ্ন কেন রয়েছে?’
চিকিৎসকরাও আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। তবে কীসের আঘাত তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি কেউ। বধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে রিলস বানানো ও অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তরুণীর মোবাইল তখন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে আবার স্ত্রীর মান ভাঙাতে চকোলেট নিয়ে আসেন সঞ্জীব। দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর ওই বধূ ঘরে ছিলেন আর সঞ্জীব ফুটবল খেলতে মাঠে চলে যান। বিকেলে চা খাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়ে এক জা প্রিয়াংকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান। তারপর তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। আলিপুরদুয়ার রেল হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয় বলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি। তবে বাঁচানো যায়নি।
রিলসকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনার কথা সামনে আসায় শহরে চর্চা শুরু হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের বিশিষ্ট নাগরিক প্রমোদ নাথ বলেন, ‘তরুণ-তরুণীদের মধ্যে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওর প্রতি আলাদা আবেগ তৈরি হয়েছে। অনেক সময় তা বাড়াবাড়ির জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে। সমাজে তার কুপ্রভাব পড়ছে।’
