কিশনগঞ্জ: টুরিস্ট ভিসায় (Vacationer Visa Fraud Bihar) মালয়েশিয়ায় নিয়ে গিয়ে প্রতারণার জেরে ভয়াবহ বিপদের মুখে সীমান্ত এলাকার বেকার যুবকরা। কিশনগঞ্জ জেলার কোচাধামন ব্লকের এগারো জনেরও বেশি যুবককে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মালয়েশিয়া পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে খবর। আবার গ্রেপ্তারির ভয়ে অনেকেই মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গলে লুকিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এই মর্মে একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ‘উত্তরবঙ্গ সংবাদ’ ওই ভিডিও ফুটেজের সত্যতা যাচাই করেনি। এই পুরো ঘটনায় স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্ট তথা এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে বড়সড়ো প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও ধৃত যুবকদের আত্মীয়-স্বজনদের অভিযোগ, মাস ছয়েক আগে পুর্নিমা জেলার রৌটাহাটের ট্রাভেল এজেন্ট তথা এআইএমআইএম (AIMIM) নেতা হাজি নাহিদ গনির হাতে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে দিয়েছিলেন তাঁরা। পরিবারগুলির দাবি, জমিজমা বিক্রি করে, গয়না বন্ধক রেখে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে যুবকদের বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ওয়ার্ক ভিসার বদলে তাঁদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল টুরিস্ট ভিসা। বিনা ওয়ার্ক ভিসায় ভিন্ দেশে কাজ করতে গিয়েই সেখানকার ইমিগ্রেশন বিভাগ ও পুলিশের হাতে ধরা পড়েন কিশনগঞ্জ ও পুর্নিমার সীমান্ত অঞ্চলের এই বেকার যুবকরা।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কোচাধামন ব্লকের আসুরা গ্রামের মুবারক আলম, কানাইয়াবাড়ির উবেদ আলম, কাজলামনির তনবির আলম, নৌরঙ্গার মহম্মদ নোফিস এবং কাজলামনির চাঁদ বাবুদের মতো যুবকদের মালয়েশিয়া পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে। এমনকী অভিযুক্ত এজেন্ট নিজেই এই প্রতারণার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এত বড় অপরাধের পরেও অভিযুক্ত ওই মিম নেতা প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
মালয়েশিয়ার জেলে বন্দি এবং জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা এই যুবকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কিশনগঞ্জের কংগ্রেস সাংসদ ড. জাভেদ আজাদ এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমারের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পুলিশ সুপার দ্রুত বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, কোচাধামন বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক মাস্টার মুজাহিদ আলমও একই ইস্যুতে পুর্নিমার জেলাশাসক অংশুল কুমারের সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভিন্ দেশে বিপদে পড়া এই যুবকরা শেষ পর্যন্ত স্বদেশে ফিরতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

