‘অঙ্গ এক, রূপ অনেক’, শরতে দেবী কামতেশ্বরীর পুজো হয় দুর্গা রূপে, টানা ৩ দিন জ্বলে যজ্ঞের আগুন

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


পুজোর বয়স ৫০০ বছর। শরৎকালে কোচবিহারের গোসানিমারিতে দেবী কামতেশ্বরী পূজিত হন দুর্গা রূপে। কালী পুজোর সময় পুজো হয় দীপান্বিতা কালী রূপে। আবার মাঘ মাসে এই দেবীই পূজিত হন রটন্তী কালী রূপে। শরৎকালে দুর্গা রূপে দেবীর পুজোয় এক সময় দুই বাংলার কার্যত মিলন স্থলে পরিণত হত গোসানিমারি। যদিও এখন বদলেছে পরিস্থিতি। বাংলাদেশ থেকে সেভাবে দর্শনার্থীরা আর আসতে পারেন না। তবে নিয়ম নিষ্ঠার কোনও খামতি নেই দেবীর পুজোয়। কোচবিহারের রাজ পরিবারের বড়দেবীর সমসাময়িক এই পুজোতে মহাসপ্তমীতে জ্বালানো যজ্ঞের শিখা মহা নবমীর শেষে গিয়ে নেভানো হয়। লাগাতার তিন দিন দেবী দুর্গার সামনে যজ্ঞের আগুনে ৫০১ বেলপাতা দেওয়া হয়। সেই রাজ আমল থেকে চলে আসা প্রথা মেনে আজও এখানে পাঠা, পায়রা, হাঁস বলির প্রথা প্রচলিত রয়েছে। মহাঅষ্টমীতে দেবীকে মহিষ বলি উৎসর্গ করা হয়। এবছর অবশ্য জোড়া মহিষ দেবীকে উৎসর্গ করা হবে। দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে দেবীর পুজোর আয়োজনে একটি মহিষ বলি দেওয়া হয়। তবে এবার একজন ভক্তের মনস্কামনা পূরণ হওয়ায় আরেকটি মহিষ বলি হবে সেখানে।

কামতেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত পরিতোষ ঝা জানান, ৫০০ বছর আগে খেন বংশে প্রথম এই পুজো শুরু হয়েছিল। দেবীর পুজোয় মহালয়ার দিন ঘট বসানো হয়। সেই ঘট মহাদশমীতে দেবী রূপে মানসাই নদীতে বিসর্জন করা হয়। মাঝে তিন দিন মহাযজ্ঞের অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে রাখার প্রথা প্রচলিত রয়েছে। সেটা মেনে তিনদিনের মধ্যে আগুন নিভতে দেওয়া হয় না। এবার অবশ্য মহাঅষ্টমীতে জোড়া মহিষ বলি দেবীকে উৎসর্গ করা হবে।

আরও পড়ুন:

কথিত রয়েছে, খেন বংশের রাজা নীলধ্বজ গোসানিমারীতে দেবী কামতেশ্বরী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কালের বিবর্তনে সেই মন্দির ধ্বংস হয়ে গেলেও ১৬৬৫ খ্রীষ্টাব্দে মহারাজা প্রান নারায়ণের উদ্যোগে পুনরায় মন্দির স্থাপন করা হয়। তারপর থেকেই এই মন্দিরে পুজো হয় দেবী কামতেশ্বরীর। বর্তমানে এই মন্দিরের দায়িত্বে রয়েছে কোচবিহার দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ড। সারা বছর মন্দিরে হয় নিত্য পুজো। দুর্গা পুজোর সময় দেবীকে কামতেশ্বরী দুর্গা রূপে পুজো করা হয়। শুধু তাই নয় কালী পুজোর সময় দেবীকে দীপান্বিতা কালী ও মাঘ মাসে দেবীকে রটন্তী কালী রূপে পূজা করা হয়। মহালয়া থেকে দেবীকে দুর্গা রূপে পুজো করা হয়। তবে বড়দেবী কিংবা কাঠামিয়া মন্দিরের মতো আলাদা মূর্তি গড়া হয় না। প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত পায়রা বলি হয়। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত পাঠা বলি দেওয়া হয়। অষ্টমীতে মহিষ বলি দেবীকে উৎসর্গ করা হয়।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *