উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে আমেরিকাকে নতুন বার্তা পাঠাল ইরান (US-Iran Battle)। কাতারভিত্তিক মধ্যস্থতাকারীদের (Qatar mediation) মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে মোট সাতটি শর্ত (Situations) পেশ করেছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন যে, এই শর্তগুলি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) টেবিলে রয়েছে এবং তেহরান এর ইতিবাচক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
রেজায়ি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন যদি এই সংকট থেকে নিজেদের বের করে আনতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই ইরানের এই শর্তগুলি মেনে নিতে হবে। তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সমস্ত পক্ষকে সামরিক অভিযান চিরতরে বন্ধ করতে হবে, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের ফ্রিজ হওয়া অর্থ অবমুক্ত করতে হবে এবং ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলতে হবে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এরপর থেকেই কাতার ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক দেশগুলো দু’পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ক্রমাগত মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও সমানতালে বজায় রেখেছে ইরান। দেশটির সামরিক মূল্যায়ন অনুযায়ী ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ফের হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিগত দুই দফার সংঘর্ষের অভিজ্ঞতার পর নিজেদের রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে তেহরান। পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর পর্যন্ত মার্কিন নৌবহর ও রণতরীগুলোর গতিবিধির ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি এলাকায় একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত একটি নতুন অ্যান্টি-শিপ মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও সম্পন্ন করেছে ইরানি বাহিনী। রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে কোনও আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর, যার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে মার্কিন ঘাঁটি এবং স্থানীয়ভাবে কর্মরত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো।’
তেহরানের পরমাণু নীতি প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে যে, দেশটির বর্তমান পারমাণবিক অবস্থান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকারী ধর্মীয় ফতোয়া তারা মেনেই চলছে। পরমাণু বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে এখনই সরে দাঁড়ানোর কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও মার্কিন নীতি অপরিবর্তিত থাকলে তেহরান সেই পথে হাঁটতে বাধ্য হতে পারে। এছাড়া বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধের জল্পনা নাকচ করে রেজায়ি একে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে প্রায় চূড়ান্ত হওয়া সমঝোতার রূপরেখাটি আঞ্চলিক অনুমোদনের অপেক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

