Kaliachak | এইমস-এর নার্সিং অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় সফল কালিয়াচকের সাহেনা

Kaliachak | এইমস-এর নার্সিং অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় সফল কালিয়াচকের সাহেনা

ব্লগ/BLOG
Spread the love


সেনাউল হক, কালিয়াচক : শিক্ষা থেকে গবেষণা, বিভিন্ন বিষয়ে দেশ-বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন কালিয়াচকের সংখ্যালঘু ঘরের মেয়েরা। সেই তালিকায় এবার যোগ হবে আরেক নাম। সাহেনা পারভিন। মানব সেবাই পরম ধর্ম- এই নীতিবাক্যকে জীবনের লক্ষ্য বানিয়েছেন তিনি। সমস্ত বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস)-এ নার্সিং অফিসার রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে কালিয়াচকের মুখ উজ্জ্বল করেছেন কালিয়াচকের এই মেধাবী তরুণী।

কালিয়াচকের (Kaliachak) শেরশাহি রান্নুচক গ্রামের বাসিন্দা সাহেনার কথায়, অনুশাসনের গণ্ডিতে বন্দি না থেকে, কর্তব্যে অবিচল থাকতে হবে। আর আমি সেই কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করছি। কোনও গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, মানব ধর্ম পালন করছি।

মা সেলিনা বিবি বাড়িতে মশারি সেলাই করেন। বাবা সাজ্জাদ মোমিন সেলাই করা সেই মশারি দোকানে দোকানে বিক্রি করেন। মাঝেমধ্যে কলকাতা থেকে কাপড় নিয়ে এসে বিক্রি করেন। এমনই এক অভাবের সংসারে বড় হয়েছেন সাহেনা। তাঁর বাবা-মায়ের অদম্য ইচ্ছা, ছেলেমেয়েরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক। তাই সাহেনা ও ভাই সাহেব মোমিনকে আল আমিন মিশনে ভর্তি করেন। তারপর ২০২৪ সালে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে বিএসসি নার্সিং কোর্স সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন সাহেনা। তারপর থেকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস)-এ নার্সিং অফিসার রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। তাঁর সর্বভারতীয় র‍্যাংক ১৮৫৯। নার্সিং অফিসার রিক্রুটমেন্ট কাম এলিজিবিলিটি টেস্ট দুই দফায় হয়ে থাকে। প্রথম দফায় (নরসেট ৯) হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর। সারা ভারতে ৮৫ হাজার আবেদনকারী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। সেখানে সাহেনার পার্সেন্টেজ ছিল ৯৮.৪৪। মেইনস পরীক্ষা হয় ২৭ সেপ্টেম্বর। ফলাফল ঘোষণা হয় তিন অক্টোবর। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯ হাজার ৩৯৪ জন।

সাহেনার এক ভাই কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পড়াশোনা করছেন। ছোট ভাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। মা সেলিনা খাতুনের বক্তব্য, ‘মেয়েরা চাঁদে পাড়ি দিচ্ছে। মেয়েরা লেখাপড়া করবে। বড় হবে, এটাই সকলের কামনা করা উচিত। মেয়ের সাফল্যে আমরা গর্বিত।’ বাবা সাজ্জাদ মোমিন বলেন, ‘মেয়ে পরিবারের বোঝা নয়। তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে উঁচু জায়গায় পাঠানো যায়।’ সাহেনার মামা ডাঃ সানাউল্লাহ আহমেদের বক্তব্য, ‘ও বরাবরই মেধাবী ছাত্রী। অধ্যবসায় তাকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গিয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *