Mekhliganj | খোলা সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর আগে জালিয়াতি , ভুয়ো দলিল দেখিয়ে জমির খতিয়ান বদলের চেষ্টা

Mekhliganj | খোলা সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর আগে জালিয়াতি , ভুয়ো দলিল দেখিয়ে জমির খতিয়ান বদলের চেষ্টা

ব্লগ/BLOG
Spread the love


মেখলিগঞ্জ: কাঁটাতার বসানোর আগেই শুরু জমি জালিয়াতি। সম্প্রতি মেখলিগঞ্জের কুচলিবাড়ি এলাকায় খোলা সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এমনকি জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাজুড়ে জালিয়াতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যের জমির মালিকানা নিজেদের নামে পরিবর্তন করে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করা হয়েছে। যাতে প্রকৃত জমির মালিক সরকারি ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হন। বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩০ ভোটবাড়ি এলাকায় এমনই একটি ঘটনা সামনে এল। অভিযোগ, মেখলিগঞ্জ মহকুমা আদালতের আইনজীবী দুই ভাই কৌশিক সিংহ সরকার ও বিনায়ক সিংহ সরকার সহ তাঁদের ভাইদের পৈতৃক সম্পত্তির চার শতক জমির খতিয়ান বদলানোর চেষ্টা করেছেন মেখলিগঞ্জ পুরসভার এক কর্মী মানু সিংহ সরকার। অভিযুক্তের সহযোগী হিসেবে মাহাবুল আলম নামের এক মুহুরির নামও উঠে এসেছে। এক ব্যক্তির জমির মালিকানায় নাম ইতিমধ্যেই বদলে গিয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর ও থানায় এনিয়ে অভিযোগও জানানো হয়েছে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে মেখলিগঞ্জ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুজন রায় জানান, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে মেখলিগঞ্জ থানার এক আধিকারিক বলেন, ‘কুচলিবাড়ি থানা এলাকায় এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি জিরো এফআইআর দায়ের হয়েছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি।’

এনিয়ে মেখলিগঞ্জ বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তথা অভিযোগকারী কৌশিক সিংহ সরকার বলেন, ‘জাল দলিলের মাধ্যমে আমাদের জমি নিজের নামে মিউটেশন করার চেষ্টা করেছেন মানু। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সহ একাধিক জায়গায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। আমরা অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ আরেক ভাই বিনায়ক আরও বলেন, ‘শুধু আমাদেরই নয়, পাড়ার মোট ১৮ জনের জমির খতিয়ান এইভাবে পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে এক ব্যক্তির জমির নাম ইতিমধ্যে পরিবর্তিতও হয়ে গিয়েছে।’

এদিকে যাঁর জমির খতিয়ান বদল হয়ে গিয়েছে সেই রুনু সিংহ সরকারের অভিযোগ, ‘আমাদের ৮ বিঘা জমির খতিয়ান রাতারাতি বদলে গিয়েছে। অথচ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর থেকে আমরা কোনও নোটিশ পাইনি। ভুয়ো দলিল দেখিয়ে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে মানু সহ কয়েকজন জড়িত।’ এছাড়া তন্ময় সিংহ সরকার নামে এক ব্যক্তির জমিরও নাম পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘আমাদের পাড়ায় প্রথম এরকম ঘটনা প্রকাশ্যে এল। তবে জমি মাফিয়ারা এরকম ঘটনা অন্যান্য জায়গাতেও ঘটাতে পারে।’

এই ঘটনায় শুধু ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর নয়, মেখলিগঞ্জ থানাতেও মানু ও মাহাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত মাহাবুলের দাবি, ‘আমি কেবল আবেদনপত্র লিখে দিই। খতিয়ান পরিবর্তন হবে কি না, তা সরকারি আধিকারিকদের বিষয়।’ অন্যদিকে মূল অভিযুক্ত মানুর বক্তব্য, ‘আমি কারও জমির খতিয়ান বদলাইনি। দপ্তরে কয়েকটি আবেদন করেছিলাম, পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *