উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য উত্তরপ্রদেশের (UP Rajya Sabha) প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। সোমবার বিকেলে ঘোষিত বিজেপির আটজনের তালিকায় নাম নেই স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani) কিংবা হরদীপ সিং পুরীর মতো হেভিওয়েট নেতৃত্বের। সম্প্রতি বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে ফিরে এসে মূল স্রোতের রাজনীতিতে স্মৃতির পুনর্বাসন নিয়ে চর্চা চলছিল। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ থেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগে সংসদে যাওয়া মোদী মন্ত্রিসভার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ পুরীর (Hardeep Singh Puri) পুনর্নির্বাচন নিয়েও জল্পনা ছিল তুঙ্গে। তবে সব সমীকরণকে একপাশে সরিয়ে পদ্মশিবির স্পষ্ট বার্তা দিল সংগঠনের অভ্যন্তরে নিজস্ব শৃঙ্খলা ও সামাজিক ভারসাম্যই তাদের কাছে অগ্রাধিকার।
আগামী ১৬ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই তিন রাজ্যের মোট ১২টি রাজ্যসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং সেদিনই গণনা সম্পন্ন হবে। সংসদের উচ্চকক্ষে বর্তমানে ১১৬ জন সদস্য নিয়ে বিজেপি একক বৃহত্তম দল। উত্তরপ্রদেশ থেকে এবার মেয়াদ শেষ হচ্ছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ পুরী, বিএল বর্মা ছাড়াও অরুণ সিং, গীতা শাক্য, নীরজ শেখর, ব্রিজলাল এবং সীমা দ্বিবেদীর মতো পদ্ম নেতাদের। পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব এবং বিএসপির রামজি গৌতমের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। অন্যদিকে, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত হওয়ার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী দীনেশ শর্মার ইস্তফা কার্যকর হওয়ায় আরও একটি আসন শূন্য হয়েছিল।
বিজেপির প্রকাশিত নতুন তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন ধরমপাল সিং, রাধাকান্ত ওঝা, প্রকাশ পাল, বিদ্যা সাগর সোনকর, গোপীকৃষ্ণ পাণ্ডে, প্রিয়াঙ্কা সিং রাওয়াত, রাম প্রতাপ সিং চৌহান এবং শ্রুতি গাঙ্গওয়ার। বিগত কয়েক দিন ধরেই স্মৃতি ইরানি, হরিশ দ্বিবেদী, সঞ্জীব বলিয়ান ও কৌশল কিশোরের মতো নামগুলি নিয়ে জোর চর্চা চলছিল। তবে দল সূত্র বলছে, গত লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত নেতাদের রাজ্যসভায় পুনর্বাসন না দেওয়ার নীতিতে অনড় শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই কারণেই অমেঠীতে পরাজিত স্মৃতি, বস্তির হরিশ দ্বিবেদী, মোহনলালগঞ্জের কৌশল কিশোর কিংবা মুজফ্ফরনগরের সঞ্জীব বলিয়ানকে বিবেচনায় রাখা হয়নি।
একইসঙ্গে বিজেপির একটি অঘোষিত ঐতিহ্য রয়েছে—দায়িত্ব পাওয়ার পরই কোনও সাধারণ সম্পাদককে তড়িঘড়ি রাজ্যসভায় পাঠানো হয় না। অরুণ সিং বা বর্তমান উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সাংগঠনিক কাজের পরই সেই সুযোগ এসেছিল। এমনকী দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সুনীল বনসলও এখনও পর্যন্ত রাজ্যসভায় যাননি।
আসলে উত্তরপ্রদেশের এই প্রার্থী নির্বাচনের মূল লক্ষ্য ‘মিশন ২০২৭’ অর্থাৎ আগামী বিধানসভা নির্বাচন। গত লোকসভা ভোটে কুর্মি ও পার্সী ভোটব্যাঙ্ক বিজেপির হাতছাড়া হয়ে সমাজবাদী পার্টির দিকে ঝুঁকেছিল। সেই ক্ষত মেরামত করতে এবং মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে পার্সী সম্প্রদায় থেকে প্রাক্তন সাংসদ প্রিয়াঙ্কা রাওয়াত এবং কুর্মি সমাজ থেকে শ্রুতি গাঙ্গওয়ারকে প্রার্থী করা হয়েছে। ২০১৪ সালে বরাবাঁকি থেকে জেতার পর ২০১৯ ও ২০২৪ সালে টিকিট না পাওয়া প্রিয়াঙ্কাকে দল এবার পুরস্কৃত করল। অন্যদিকে, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের প্রভাবশালী লোধ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিএল বর্মার পরিবর্তে যোগী মন্ত্রিসভার সদস্য ধরমপাল সিংকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। বর্মা রাজ্য সভাপতি হওয়ার দৌড়ে থাকলেও পদটি পান কুর্মি নেতা পঙ্কজ চৌধুরী।
এদিকে, হরদীপ পুরীর বর্তমান মেয়াদ নভেম্বরে শেষ হওয়ার পর তিনি সাংবিধানিক নিয়মে আরও ছয় মাস মন্ত্রী থাকতে পারবেন। সামনে পঞ্জাব বিধানসভা ভোট থাকায় মোদী মন্ত্রিসভার একমাত্র শিখ মুখকে দল কীভাবে ধরে রাখে, সেটাই দেখার। সব মিলিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব কর্মীদের বুঝিয়ে দিল, নিষ্ঠাভরে কাজ চালিয়ে গেলে সংগঠনের দরজা কারও জন্যই চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় না।

