ফালাকাটা: মাদকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে এ বার আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিল ফালাকাটা থানার পুলিশ। সরাসরি কারও বাড়িতে অভিযান চালানোর আগেই আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে ফাঁদে ফেলা হলো গাঁজা চাষীদের (Unlawful Hashish Cultivation)। ড্রোনের চোখে ধরা পড়তেই বাড়ি বাড়ি ঢুকে উঠোনের একের পর এক গাঁজা গাছ কেটে আগুনে পুড়িয়ে দিল পুলিশ প্রশাসন। শুক্রবার ফালাকাটাজুড়ে পুলিশের এই অভিনব অভিযানে চরম চাঞ্চল্য ছড়ায়।
ফালাকাটা থানার সূত্রের খবর, আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এলাকা জুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে টানা নজরদারি চলছে। সেই অভিযানের অঙ্গ হিসেবেই শুক্রবার ফালাকাটা ব্লকের ময়রাডাঙ্গা, শালকুমার, দেওগাঁও, জটেশ্বর, গুয়াবরনগর ও ফালাকাটা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক দল গঠন করে ড্রোন ক্যামেরা নিয়ে ময়দানে নামে পুলিশ।
অভিযানের কৌশল ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—বাড়িতে সশরীরে ঢুকে হট্টগোল না করে কৌশলে ওপরে ড্রোন উড়িয়ে বাড়ির ভেতরের দৃশ্য খতিয়ে দেখা। বেশ কিছু এলাকায় ফালাকাটা থানার আইসি তমাল দাস নিজেই এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। আকাশ থেকে ড্রোনের ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যায়, একের পর এক বাড়ির উঠোনে যত্ন করে লালন-পালন করা হচ্ছে গাঁজা গাছ। ড্রোনের ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়ার পরেই সঙ্গে সঙ্গে সেই সমস্ত বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ সূত্রের খবর, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গড়ে ৮ থেকে ১০টি বাড়ির উঠোনে এভাবে গাঁজা চাষের সন্ধান মেলে। সমস্ত এলাকা মিলিয়ে প্রায় ৫০টি বাড়ির উঠোন থেকে গাঁজা গাছ কেটে বের করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই সেগুলিতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করে দেওয়া হয়। তবে খোলা চাষের জমিতে কোনো গাঁজার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ দিনের অভিযানের পর বাড়ির কর্তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি আর কখনো বাড়ির উঠোনে বা আঙিনায় বেআইনিভাবে এভাবে গাঁজা চাষ করা হয়, তবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ স্পেস নির্দেশ দিয়েছে।

