ধনতেরাস যেন বাঙালির কাছে বারো মাসের তেরো পার্বণের মতো। এটিকে সোনা, রুপোর মতো দামি ধাতু কেনার দিন বলেই মনে করেন কেউ কেউ। অনেকেরই বিশ্বাস, তাতে শ্রীবৃদ্ধি হয় সংসারের। পঞ্জিকা অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল, দুপুর, সন্ধ্য়ায় নির্দিষ্ট সময়ে সোনা, রুপো কেনাকাটি করা যেতে পারে। তবে শুধু কেনাকাটি করলেই হবে না। এদিন নির্দিষ্ট জায়গায় প্রদীপ জ্বালালেও ধনদেবীর আশীর্বাদ পাওয়া সম্ভব। জেনে নিন ধনতেরাসের কতগুলি প্রদীপ জ্বালানো উচিত, কোথায় রাখা উচিত।
ধনতেরাসের সন্ধ্যায় জ্বালান ১৩টি প্রদীপ। প্রথমে ঘরের বাইরে আবর্জনার কাছে একটি প্রদীপ জ্বালান। প্রদীপটি অবশ্যই দক্ষিণ দিকে মুখ করে রাখা উচিত। বিশ্বাস করা হয় এই প্রদীপটি যমরাজের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। এই প্রদীপটি জ্বালালে সংসারে নেতিবাচক শক্তি দূর হবে। প্রিয়জন এবং নিজের অকালমৃত্যুর আশঙ্কাও দূর হয়।
আরও পড়ুন:

এরপর বাকি প্রদীপগুলি ঘরের প্রধান প্রবেশপথ, তুলসিতলা, বাড়ির ছাদ, পিপল গাছের কাছে, বাড়ির কাছের মন্দিরে প্রদীপ জ্বালাতে হবে। শৌচালয় এবং জানলার কাছে একটি প্রদীপ রাখাও শুভ। তবে খেয়াল রাখবেন ১৩টির বেশি প্রদীপ যেন না হয়।
এদিন যমদীপও জ্বালাতে পারেন। তবে তা ভাইফোঁটা পর্যন্ত জ্বালিয়ে রাখাই রীতি। এই প্রদীপ জ্বালানোর সময় ভাইয়ের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থতা কামনা করবেন। যমদীপ দানের সময় অবশ্যই মন্ত্রপাঠ করুন। মন্ত্রটি হল: ‘মৃত্যুনা পাশাষ্টেন কালেন ভর্য সাহা। ত্রয়োদশী দীপদানত সূর্যজঃ প্রেয়তামিথি।’
তবে ধনতেরাস কেবল সোনা-রুপো কেনার দিন নয়। এ হল শরীর ও মনের ভারসাম্য রক্ষা করার পাঠ। দেববৈদ্য ধন্বন্তরি এবং যমরাজের আরাধনার মধ্যে দিয়ে আসলে সর্বরোগ থেকে আরোগ্যলাভের প্রার্থনা করা হয়। ভেষজ জ্ঞান আর চিকিৎসাবিদ্যার স্রষ্টাকে স্মরণের মধ্য দিয়ে এই ত্রয়োদশী হয়ে ওঠে জীবনের জয়গান। প্রদীপের আলোয় রোগজীর্ণতা দূর করার এই আবহমান আচার আজও আমাদের জীবনকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে প্রেরণা জোগায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
