নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট: হলং নদীর ডাইভারশন দিয়ে পর্যটকদের তিন বা তার বেশি চাকাবিশিষ্ট যানবাহন নিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ, শুক্রবার জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজারকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিলেন জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণ সংরক্ষক নবিকান্ত ঝা (Jaldapara)। তবে বাইকের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। বাধা নেই বন দপ্তরের গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রেও।
এদিকে ওই চিঠি পেয়েই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার নিরঞ্জন সাহা। তাঁর বক্তব্য, ‘লজে প্রায়ই ভিভিআইপিরা আসছেন। পর্যটকদের নদীর পাড়ে গাড়ি রেখে প্রায় ৪০০ মিটার পায়ে হেঁটে লাগেজ টেনে আনতে হবে।’ তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠিটি পাঠিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান।
নিরঞ্জন আরও জানান, বর্তমানে সাময়িকভাবে পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ থাকলেও আগামী সপ্তাহ থেকে ভিড় বাড়বে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বয়স্ক পর্যটকদের কী হবে? তখন আমাদের কথা শুনতে হবে। আর কবে ভেঙে যাওয়া ব্রিজ তৈরি হবে সেটাও বলা মুশকিল। বন দপ্তরের গাড়ির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।’
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণ সংরক্ষক নবিকান্ত যদিও বলছেন, ‘বন দপ্তরের প্রতিটি কাজ জরুরি পরিষেবার মধ্যে পড়ে। বন্যপ্রাণীদের রক্ষার জন্য প্রাণী চিকিৎসক থেকে শুরু করে অন্য স্টাফদের গাড়ি ছাড়া যাতায়াত সম্ভব নয়। আর ওই ডাইভারশনটি মজবুতভাবে তৈরি করা যায়নি। তবে ট্যুরিস্ট লজের ক্ষেত্রে জরুরি পরিষেবার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল যাতায়াত করতে পারবে। বাইক চলাচলে নিষেধ নেই।’ তবে ভিভিআইপিদের ওই নিয়ম মেনে চলতে হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
হলং নদীর ডাইভারশনের ওপারে রয়েছে জলদাপাড়া কার সাফারি ও এলিফ্যান্ট রাইডের টিকিট বুকিং কাউন্টার। আগামী সপ্তাহ থেকে সাফারি চালু হতে পারে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু গাড়ি চলাচল বন্ধ হলে, বয়স্ক পর্যটকদের সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া বসার কোনও ব্যবস্থা নেই। নদীর ওপর আদৌ কবে ব্রিজ তৈরি হবে তা এখনই কেউ বলতে পারছেন না।
