উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সংঘর্ষের আবহেই ইউক্রেনের সামরিক মহলে বড়সড়ো রদবদল ঘটল। তরুণ প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অপসারণের জেরে সৃষ্ট তীব্র রাজনৈতিক সংকটের জেরে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান (Ukraine Military Chief Sacked) ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy)। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যৌথ বাহিনীর কমান্ডার মিখাইলো দ্রাপাতিকে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।
ষাট বছর বয়সী ওলেক্সান্দর ২০২২ সালে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের শুরুতে কিয়েভ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং তিনি কিয়েভের অন্যতম অভিজ্ঞ কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাখাইলো ফেদোরভকে হঠাৎ বরখাস্ত করার পর থেকেই সিরস্কির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। মাত্র ছয় মাস আগে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৫ বছর বয়সি ফেদোরভ সেনার আধুনিকীকরণে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেনাকর্তাদের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য তৈরি হয়। ফেদোরভ প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছিলেন যে, সিরস্কি তাঁর সংস্কারের কাজ আটকে দিচ্ছেন এবং তাঁকে পদচ্যুত করতে চাপ সৃষ্টি করছেন। যদিও সিরস্কি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
এই বিরোধ ইউক্রেনের (Ukraine) সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্দরে বিরল ফাটল উন্মুক্ত করে দেয়। অথচ এমন একটি সময়ে এই সংকট তৈরি হয়, যখন ইউক্রেনীয় বাহিনী বিগত কয়েক মাসের তুলনায় বেশ ভালো অবস্থানে ছিল। ইউক্রেনের বাহিনী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ অগ্রাসনকে অনেকটাই শ্লথ করে দিয়েছে এবং দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোকে নিশানা করছে।
সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণকারী মিখাইলো একজন অত্যন্ত দক্ষ ও পদকপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল। এর আগে তিনি ইউক্রেনের স্থলবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দোনবাসের যুদ্ধে মস্কো-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে নেমেছিলেন। ২০১৪ সালে মারিউপোল শহরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চেকপয়েন্টে সাঁজোয়া গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার একটি আলোচিত ঘটনার সুবাদে তিনি ইউক্রেনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
৪৩ বছর বয়সি মিখাইলো এই নিয়োগের জন্য প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের এই লড়াইয়ে দায়িত্ব নেওয়া তাঁর কাছে পরম সম্মানের বিষয়। ফেদোরভের বরখাস্তের জেরে ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। নাগরিক সমাজের অনেকেই সেনাসদরে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি তুলে সিরস্কির অপসারণের দাবি জানান। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা সিরস্কিকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হলেন জেলেনস্কি।

