চ্যাংরাবান্ধা: বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র—এই প্রবাদকে ফের একবার সত্য প্রমাণ করলেন শীতলকুচির বড়মরিচার লালবাজার অঞ্চলের বাসিন্দা তাইজুল হক মিয়া। জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণমুক্ত পরিবেশের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রায় ১৮০০ কিলোমিটার পথ সাইকেলে পাড়ি (Biking) দেওয়ার সংকল্প নিয়ে আজমীর শরীফের (Sitalkuchi To Ajmer) উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তিনি।
শুক্রবার শীতলকুচি থেকে রওনা হওয়ার পর শনিবার তাঁকে চ্যাংরাবান্ধা (Changrabandha) এলাকায় দেখা যায়। অদম্য সাহসের পরিচয় দিয়ে এগিয়ে চলা এই বৃদ্ধ জানান, ট্রেন বা বাসের মতো আরামদায়ক যাত্রার বদলে তিনি বেছে নিয়েছেন সাইকেলকে। এর পেছনে তাঁর মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশ সচেতনতা। তাইজুল হকের কথায়, “দূষণমুক্ত পরিবেশের বার্তা সাইকেলের যাত্রার মাধ্যমে দিকে দিকে ছড়িয়ে দিতে চাই। সেই কারণে বাস ট্রেন সমস্ত বাদ দিয়ে এই সাইকেল যাত্রার চিন্তা মাথায় এসেছে।”
এত বড় পথ পাড়ি দেওয়া সহজ কাজ নয়। তবে তাইজুল হক মিয়া জানান, এর আগেও তিনি একবার সাইকেলে এবং একবার পায়ে হেঁটে আজমীর শরীফ সফর করেছেন। তাই এই দীর্ঘ পথ সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাতে আশ্রয়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, কখনও হোটেল, কখনও মসজিদ বা মন্দিরে যেখানেই জায়গা পান, সেখানেই রাত কাটিয়ে নেন। খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, “মানুষ যা দিচ্ছে, তা-ই হাসিমুখে খেয়ে নিচ্ছি।”
পথে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও তিনি অবিচল। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, পথেই সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে।কথার মাঝেই হাসিমুখে সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দিয়ে চ্যাংরাবান্ধা পেরিয়ে আজমীরের পথে ফের যাত্রা শুরু করেন এই বৃদ্ধ।

