ফালাকাটা: সরকার পরিবর্তনের পর ফালাকাটা পুরসভার (Falakata Municipality) চেয়ারম্যান ইস্তফা দেওয়ায় সেখানে প্রশাসক বসানো হয়েছে। সেই পথে হেঁটে এবার পঞ্চায়েত সমিতিতেও (Falakata Panchayat Samiti) প্রশাসক বসানো হতে পারে বলে ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর। সভাপতির পদ ফাঁকা থাকায় এবং সদস্য সংখ্যার সমীকরণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ফালাকাটার বিডিও তথা পঞ্চায়েত সমিতির এগজিকিউটিভ অফিসার আদৃতা সমাদ্দারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অন্য ইঙ্গিত মিলেছে বিজেপির ফালাকাটা বিধানসভার সংযোজক জয় সূত্রধরের কথায়। তিনি বলছেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করেছি। আগামী সোমবার বাকি তিনটি পঞ্চায়েতেও বোর্ড গঠন করব। তারপরই পঞ্চায়েত সমিতি নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তাঁদের আশা, উন্নয়নের স্বার্থে পঞ্চায়েত সমিতির সমস্ত সদস্য বিজেপির হাত ধরবেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, প্রশাসক বসানোর পর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের নিজেদের দিকে টেনে পঞ্চায়েত সমিতির দখল নিতে পারে পদ্ম শিবির।
ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির মোট আসন ৩০। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল ২২টি ও বিজেপি ৮টি আসনে জয়ী হয়। সভাপতি হন সুভাষচন্দ্র রায়। তিনি ২০২১ এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়েছিলেন। কিন্তু বিজেপির দীপক বর্মনের কাছে পরাজিত হন। ভোটে হারের পর সুভাষ সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।
অন্যদিকে, ফালাকাটার (Falakata) ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে জটেশ্বর-২ আগে থেকেই বিজেপির দখলে। বাকি ৯টি ছিল তৃণমূল পরিচালিত। কিন্তু বিধানসভা ভোটের ফল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ওই ৯টিরই প্রধান ও উপপ্রধান পদত্যাগ করেন। পরে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও ইস্তফা দেন।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপি কৌশলগত পদক্ষেপ শুরু করেছে। গত সপ্তাহে ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করেছে তারা এবং আগামী সোমবার বাকি ৩টিতেও বোর্ড গঠনের কথা রয়েছে। তবে পঞ্চায়েত সমিতিতে সরাসরি বোর্ড গঠন বিজেপির জন্য কঠিন, কারণ ৩০টি আসনের মধ্যে ২২টি এখনও তৃণমূলের দখলে। মাত্র ৮টি বিজেপির। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আপাতত প্রশাসক বসানো মেনে নিয়ে পরবর্তী সময়ে সদস্য ভাঙিয়ে সমিতি দখলের পরিকল্পনা করছে পদ্ম শিবির। তবে প্রশাসক কবে বসবেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

