উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যের বিমান যোগাযোগের পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সোমবার নবান্নে (Nabanna) গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডুর উপস্থিতিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় ‘উড়ান ২.০’ (Udan 2.0) প্রকল্পের আওতায় পুরুলিয়ার ছররা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডাকে আকাশপথে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে একটি মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই সঙ্গে দমদম বিমানবন্দরের ওপর ক্রমবর্ধমান যাত্রীর চাপ কমাতে নদিয়ার কল্যাণীতে প্রায় ২,০০০ একর জমির ওপর দিল্লির নয়ডার আদলে একটি নতুন আন্তর্জাতিক গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই নতুন পদক্ষেপগুলির মধ্য দিয়ে রাজ্যের প্রগতির পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) এই অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমান সংযোগের রূপরেখা তুলে ধরে জানান যে, কলকাতা থেকে সরাসরি ব্রিটেন এবং ইউরোপের প্রধান শহরগুলিতে বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়ে একটি স্মারকপত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডালের কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরকে আরও শক্তিশালী করে দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও গুয়াহাটির মতো শহরের সঙ্গে যোগাযোগ আরও নিবিড় করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির কথা মাথায় রেখে অযোধ্যার রাম মন্দির, তিরুপতি, রাজস্থানের খাতু শ্যাম এবং অমৃতসরের মতো বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্রগুলিতে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর জন্যও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে বিশেষ আর্জি জানানো হয়েছে। এই আকাশপথ উন্মুক্ত হলে কেবল সাধারণ যাত্রার সুবিধাই বাড়বে না, বরং উত্তরবঙ্গের আম ও উদ্যানপালন ক্ষেত্রের নানা কৃষিপণ্য সহজে পরিবহণ করে কৃষক ও ক্ষুদ্র-মাঝারি বা এমএসএমই ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলানোও সম্ভব হবে।
পূর্বতন সরকারের জমানায় পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনীহা ও দীর্ঘমেয়াদী জমি-জটিলতার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, আগের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কলকাতার বিকল্প বিমানবন্দরের জন্য জমি চেয়ে চিঠি পাঠালেও তৎকালীন রাজ্য সরকার তা নাকচ করে দিয়েছিল। এমনকি সেনাবাহিনীর ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও কলাইকুণ্ডায় ৩৭ একর এবং হাসিমারায় মাত্র ২৫ একর জমি না দেওয়ায় এতদিন ‘উড়ান’ প্রকল্প আটকে ছিল। তবে বর্তমান সরকারের দাবি, নতুন এনডিএ প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পরই মাত্র ১৫০ দিনের মধ্যে প্রায় ৫০০টি ওভারব্রিজের আটকে থাকা এনওসি মঞ্জুর করা হয়েছে, ৬১টি রেল প্রকল্প সচল করা হয়েছে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-কে ৯০ শতাংশ জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কল্যাণীতে প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের জমি সংক্রান্ত প্রাথমিক কাজ মুখ্যসচিব হরবিন্দর সিং ও ভূমি সচিব সুরেন্দ্র গুপ্তার তত্ত্বাবধানে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি আগামীদিনে মালদা ও কোচবিহার বিমানবন্দরকে সম্পূর্ণ রূপ দেওয়া এবং বেহালা বিমানবন্দরে আধুনিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা ফ্লাইং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট চালুর সবুজ সঙ্কেত মিলবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

