কোচবিহার: শহরঘেঁষা ফাঁসিরঘাটের তোর্ষা নদী থেকে অভিনব কায়দায় চলছে বালি এবং ভরাট চুরি। তবে আর্থমুভার দিয়ে নয়, টোটো এবং ভুটভুটি নদী থেকে কিছুটা দূরে রেখে বস্তাভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই ভরাট। এরপর বস্তা প্রতি ২০-৩০ টাকা করে তা বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। দূরত্ব ভেদে অবশ্য ভরাটের দামের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে পরিবহণ চার্জও। এভাবেই রোজ নদী থেকে ভরাট ‘চুরি’ করে বিপুল অঙ্কের টাকা উপার্জন করছেন এক শ্রেণির মানুষ। একেবারে শহর সংলগ্ন ফাঁসিরঘাট থেকে এভাবে ভরাট চুরি চললেও প্রশাসন কার্যত নিষ্ক্রিয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কোচবিহার জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক হিমাদ্রি সরকারকে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
বিশেষ করে ভোরবেলা এবং চড়া রোদে এই অপারেশন চালানো হয়। তবে কোচবিহারের তোর্ষা সহ বিভিন্ন নদী থেকে বালি, ভরাট পাচারের ঘটনা নতুন কোনও বিষয় নয়। কিন্তু ইদানীং পাচারচক্রের অভিনব কৌশল দেখে হতবাক সকলেই। এদিন দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা গেল, নদী থেকে ভরাট তুলে একের পর এক বস্তায় ভরছেন কয়েকজন। নদীর জল কম থাকায় অনায়াসে পেরিয়ে বস্তা কাঁধে নিয়ে তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে টোটো এবং ভুটভুটিতে। একটি টোটো ভর্তি হয়ে গেলে, সেই জায়গায় আনা হচ্ছে আরেকটি টোটো। এভাবেই সেই ভরাট পৌঁছাচ্ছে শহরের বিভিন্ন নির্মীয়মাণ বাড়িতে। সবটার পেছনেই রয়েছে নিখুঁত পরিকল্পনা।
অনেকের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে দপ্তর লোকদেখানো অভিযান এবং গাড়ি ধরে শুধু জরিমানা করছে। লাগাতার অভিযান না চালানোয় দিন-দিন বালি মাফিয়াদের দাপট বেড়েই চলেছে। তোর্ষার বিভিন্ন জায়গায় দিনের পর দিন এধরনের ঘটনায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবেশকর্মীরাও।
তবে আর্থমুভার না নামিয়ে এভাবে বালি পাচারের বাড়তি সুবিধাও রয়েছে। এতে হঠাৎ করে বালি চুরির ঘটনাটি প্রশাসন বা সাধারণ মানুষের নজরে পড়ছে না। নদীর কাছে গিয়ে ভালোভাবে না দেখলে তাদের এই কারসাজি বোঝা কার্যত অসম্ভব। এতে প্রশাসন আচমকা অভিযান চালালে পাচারকারীদের ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে। ট্রাক কিংবা আর্থমুভার আটক করা হলে সেক্ষেত্রে তাদের আর্থিক জরিমানার আশঙ্কা থাকে। তবে দিনের পর দিন এধরনের ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। এখন কতদিনে এ বিষয়ে প্রশাসনের টনক নড়বে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
