উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আজকাল টাম্বলার (Tumbler) কেবল জলের বোতল নয়, ফ্যাশনের অঙ্গ। জিম থেকে অফিস— বলিউড তারকাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও হাতে বড় টাম্বলার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সবসময় নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা অবশ্যই জরুরি, তবে ফ্যাশনের এই ট্রেন্ডে মেতে অপ্রয়োজনে সারাক্ষণ জল খেলে শরীরে কিন্তু মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
সুস্থ থাকতে চিকিৎসকরা দিনে সাধারণত ৩ থেকে ৪ লিটার জল খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু এর চেয়ে বেশি এবং অল্প সময়ে অতিরিক্ত জল খেলে শরীরে দেখা দেয় ‘ওয়াটার ইনটক্সিকেশন’ (Water Intoxication)।
শরীরে অতিরিক্ত জলের প্রভাব
ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা: হঠাৎ বেশি জল খেলে রক্তের ঘনত্ব কমে যায়। ফলে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
মস্তিষ্কে চাপ: মস্তিষ্কের কোষে জল জমলে ভিতরে মারাত্মক চাপের সৃষ্টি হয়, যা স্বাভাবিক স্নায়ুবিক কাজ ব্যাহত করে।
কোষে তরল জমা: রক্তে সোডিয়াম কমে গেলে শরীরের কোষে জল জমে তা ফুলতে শুরু করে।
ওয়াটার ইনটক্সিকেশনের প্রধান লক্ষণ
- বমিভাব বা বমি হওয়া এবং পেট ফুলে থাকা।
- ঘনঘন মাথাব্যথা, ঝিমুনি ও খিটখিটে মেজাজ।
- পেশির দুর্বলতা, ব্যথা বা টান ধরা (Cramps)।
- হাত, পা বা মুখ ফুলে যাওয়া।
- প্রস্রাবের রং একেবারে জলের মতো পুরোপুরি স্বচ্ছ হয়ে যাওয়া।
মুক্তির উপায়
ট্রেন্ডে গা না ভাসিয়ে শরীরের প্রয়োজন বুঝে জল পান করুন। তেষ্টা পেলে অবশ্যই জল খাবেন, তবে ১ ঘণ্টায় ১ লিটারের বেশি জল না খাওয়াই ভালো। প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হলে বুঝতে হবে জল প্রয়োজন। ব্যক্তির বয়স, ওজন, কাজের ধরন ও আবহাওয়ার ওপর জলের পরিমাণ নির্ভর করে, তাই মেপে শরীর বুঝে জল খাওয়াই শ্রেয়।

