তুফানগঞ্জ: পালাবদলের প্রায় এক মাস কেটে গিয়েছে। তবুও কোচবিহার জেলাজুড়ে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ যেন কিছুতেই কমছে না। আবাসের কাটমানি ফেরতের দাবিতে রবিবার তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের বলরামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বিক্রম অধিকারীর বাড়ির সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই বিক্ষোভের জেরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভকারীদের থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে বলা হয়।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিক্রম। তাঁর বক্তব্য, ‘বিজেপি মহিলা মোর্চাকে দিয়ে আমাকে হেনস্তা করাতে এই মিথ্যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার। আমি উন্নয়নের সঙ্গে ছিলাম। কোনও দুর্নীতির সঙ্গে আপস করিনি। যদি প্রশাসনিকভাবে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করে একটি অভিযোগও প্রমাণিত হয়, আমি শাস্তি পেতেও প্রস্তুত।’
এদিন সকাল থেকে একদল মহিলা টাকা ফেরতের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে চেকাডোরায় পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকে। তাঁরা প্রত্যেকেই আবাস যোজনার উপভোক্তা বলে দাবি করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, এতদিন চুপ থেকে এখন কেন মুখ খুলছেন তাঁরা? পুলিশে না গিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ির সামনেই কেন বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন? আর ‘কাটমানি’ দেওয়াও তো অন্যায়? যদিও গ্রামবাসীর দাবি, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এলাকার গরিব মানুষের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছেন। কারও থেকে ১ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন টাকা ফেরতের দাবিতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ওই পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
বিক্ষোভকারী রঞ্জিতা সাহার কথায়, ‘আবাস যোজনার ঘরের জন্য প্রধান আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। টাকা না দিলে তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল। সেই টাকা ফেরতের দাবিতেই এদিন আমরা আন্দোলনে নেমেছি।’ আরেক বিক্ষোভকারী সুধীর বর্মনের অভিযোগ, ‘আবাস যোজনার গ্রাহকদের থেকে ২-৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তোলা হয়েছে। প্রধানের হাত ধরে এই টাকার ভাগবাঁটোয়ারা হয়েছে। এলাকায় সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করে রেখেছিলেন এই প্রধান। অবিলম্বে সেই কাটমানির টাকা ফেরত দিতে হবে, না হলে আমরা আইনি পথে হাঁটব।’
যদিও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্ত্রী সরস্বতী অধিকারী বর্মন বলেন, ‘অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে। প্রমাণ ছাড়া যা খুশি বলা যায় না। ফল ঘোষণার পর থেকেই প্রতিনিয়ত বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে। ছেলেকে নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাচ্ছি।’
এ বিষয়ে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি উৎপল দাসের মন্তব্য, ‘তৃণমূল নেতারা গরিব উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি তুলেছেন। মানুষ এতদিন ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি। সেই টাকা ফেরত চেয়ে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই।’
