উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তুরস্কে ন্যাটোর (NATO) শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার ঠিক আগেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির (Giorgia Meloni) মধ্যকার কূটনৈতিক বিবাদ এক নতুন মাত্রা নিল। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে মেলোনির সঙ্গে নিজের একটি ছবি ও মিম পোস্ট করে নতুন করে বিতর্কের ঘি ঢাললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই প্রকাশ্য দ্বৈরথ এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প যে ছবি ও মিমটি পোস্ট করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি তাঁর দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে রয়েছেন। গত মাসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ‘জি৭’ (G7) বৈঠকের সময়ে ছবিটি তোলা বলে জানা গেছে। তবে ছবিটির ক্যাপশনে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘নিয়ন্ত্রণের একটা নির্দেশ বা নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজন।’’
একই সাথে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি নাকি তাঁকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। যদিও কী কারণে এই নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তবে নেটিজেনদের একাংশের মতে, জি৭ বৈঠকের পর থেকে দুজনের মধ্যে যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, এটি তারই ধারাবাহিকতা।
গত সপ্তাহেও ট্রাম্প এবং মেলোনির মধ্যকার অশান্তি প্রকাশ্যে এসেছিল। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ফ্রান্সে জি৭ বৈঠকের ফাঁকে তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘কাকুতি-মিনতি’ বা বায়না করছিলেন মেলোনি। ইতালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা কমতে থাকায়, তা পুনরুদ্ধারের জন্যই নাকি মেলোনি এই চেষ্টা করেছিলেন। অগত্যা না-চাইতেও ট্রাম্প সেই ছবি তুলতে রাজি হন।
ট্রাম্পের এই অহংকারী দাবির জবাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। মেলোনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‘আমি এবং ইতালি, কেউই কখনও কারও কাছে ভিক্ষা করি না।’’ ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্যকে ‘বিনা প্ররোচনায় আক্রমণ’ বলেও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
ট্রাম্প ও মেলোনির এই বৈরিতার সূত্রপাত অবশ্য আরও গভীরে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত চলাকালীন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য ইউরোপের একাধিক দেশের কাছে সামরিক ও কৌশলগত সাহায্য চেয়েছিলেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ন্যাটোর সদস্য দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইতালি সহ বেশ কিছু দেশ তাতে রাজি হয়নি। উল্টে ট্রাম্পের একতরফা ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন মেলোনি, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট সহজভাবে নেননি।
পাশাপাশি, ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে ইউরোপীয়রা অভিবাসন এবং জ্বালানি সংক্রান্ত নীতি নিয়ে একাধিক ভুল করছে। এই ভুল দ্রুত না শোধরালে ইউরোপ আর কখনই তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে না। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ইতালির বিদেশমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি (Antonio Tajani) তাঁর পূর্বনির্ধারিত আমেরিকা সফর বাতিল করেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের এই ধরনের ছবি পোস্ট করার অভ্যাস নতুন নয়। এর আগে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামাকে নিয়েও একটি ‘এডিট’ করা ছবি পোস্ট করেছিলেন ট্রাম্প। সেই ছবিতে দেখা গিয়েছিল, ওবামা দম্পতি একটি সামরিক বিমানে উঠছেন, যার গায়ে আপত্তিকর গ্রাফিতি আঁকা ছিল।
মঙ্গলবার থেকেই তুরস্কে শুরু হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো সামিট। সেখানে ট্রাম্প ও মেলোনি উভয়েরই মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সম্মেলন শুরুর আগেই যেভাবে দুই দেশের শীর্ষনেতার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকল, তাতে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। এখন বিশ্ব কূটনীতির নজর থাকবে তুরস্কের দিকে, সেখানে এই দুই রাষ্ট্রনেতার সম্পর্ক স্বাভাবিক হয় নাকি সংঘাত আরও তীব্র রূপ নেয়, সেটাই দেখার।

