সামসী: দুপুরের রান্না তখনও শেষ হয়নি। দুই ছেলে চাষের কাজে মাঠে। টিনের ছাউনি আর পাটকাঠির বেড়া দেওয়া ছোট্ট ঘরে একাই ছিলেন ষাটোর্ধ্ব বুধো বেওয়া। আচমকাই সেই ঘরে ছড়িয়ে পরে আগুনের লেলিহান শিখা। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হল না। ঘরের ভিতরেই পুড়ে মৃত্যু হল বৃদ্ধার। রবিবার দুপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় (Tragic Dying) চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাঁচল-১ ব্লকের মকদমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নদিসিক গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধো বেওয়ার দুই ছেলে। ছোট ছেলে লালু মহম্মদের বাড়ির পাশেই টিনের ছাউনি ও পাটকাঠির বেড়া দেওয়া ঘরে থাকতেন তিনি। এদিন দুপুরে দুই ছেলে চাষের কাজে মাঠে ছিলেন। সেই সময় রান্না করতে গিয়ে আচমকা ঘরে আগুন (Fireplace) লেগে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বৃদ্ধা আর ঘর থেকে বেরোতে পারেননি বলে স্থানীয়দের দাবি।
ঘটনার পর আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর দেওয়া হয় দমকল ও পুলিশকে। পরে চাঁচল (Chanchal) থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে পুড়ে গিয়েছে ঘরটি। আগুনের মধ্যে আটকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে বুধো বেওয়ার। তাঁর দেহের পাশাপাশি ঘরের সমস্ত সামগ্রীও পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুনে শুধু একটি ঘরই নয়, পরিবারের বহুদিনের সঞ্চয়ও নষ্ট হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। তাঁদের দাবি,আবাস যোজনার টাকার পাশাপাশি সোনার গয়না,গবাদি পশু, ধান ও সর্ষে-সহ বিভিন্ন সামগ্রী আগুনে পুড়ে গিয়েছে। বৃদ্ধার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়।
পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে রান্নার উনুন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের অনুমান। তবে কীভাবে আগুন লাগল এবং আগুন লাগার পর ঠিক কী ঘটেছিল,তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

