ঘন শাল-সেগুনের জঙ্গল। পাশ দিয়ে বয়ে চলা ডুলুং নদীর ঠান্ডা বাতাস। চারপাশে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। ঝাড়গ্রামের চিল্কিগড় যেন এক রহস্যে মোড়া স্থান। আর সেই গভীর অরণ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছেন কনক দুর্গা। তবে এই মন্দির শুধু ইতিহাসের সাক্ষী নয়, এক অলৌকিক বিশ্বাসের পীঠস্থান। সাধারণ ঘরে মা-বোনেরা সংসার সামলান। রান্নাবান্না থেকে ছেলেমেয়েদের যত্ন—সবই করেন। কিন্তু স্বয়ং দেবী যদি হেঁশেলে ঢোকেন? চাল-ডাল ফুটিয়ে প্রসাদ তৈরি করেন? শুনতে অবাক লাগলেও, চিল্কিগড়ের ভক্তদের কাছে এটাই ধ্রুব সত্য। মা কনক দুর্গা নাকি নিজেই ভক্তদের জন্য ভোগ রাঁধেন।
বাংলার দুর্গাপুজোয় দেবীর নানা রূপ। কোথাও তিনি উমা, কোথাও সিংহবাহিনী। তবে চিল্কিগড়ে দেবীর মহিমা অন্য রকম। কথিত আছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে এই অঞ্চলের নাম ছিল তিহার দ্বীপগড়। সেখানকার সামন্ত রাজা গোপীনাথ সিংহ এক রাতে স্বপ্নাদেশ পান। দেবী তাঁকে মন্দির গড়ার নির্দেশ দেন। রাজাদেশে শুরু হয় কাজ। রানির সোনার কাঁকন ও কয়েকশো সের সোনা গলিয়ে তৈরি হয় দেবীর মূর্তি। সোনার তৈরি বলেই তাঁর নাম কনক দুর্গা। তবে দেবীর মূর্তি এখানে ১০ হাত বিশিষ্ট নয়। তিনি চার হাতের অশ্বারোহিণী মূর্তি। ঘোড়ায় চড়ে থাকা এই চতুর্ভুজা রূপ সচরাচর দেখা যায় না।
আরও পড়ুন:

বাংলার দুর্গাপুজোয় দেবীর নানা রূপ। কোথাও তিনি উমা, কোথাও সিংহবাহিনী। তবে চিল্কিগড়ে দেবীর মহিমা অন্য রকম। কথিত আছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে এই অঞ্চলের নাম ছিল তিহার দ্বীপগড়। সেখানকার সামন্ত রাজা গোপীনাথ সিংহ এক রাতে স্বপ্নাদেশ পান। দেবী তাঁকে মন্দির গড়ার নির্দেশ দেন। রাজাদেশে শুরু হয় কাজ। রানির সোনার কাঁকন ও কয়েকশো সের সোনা গলিয়ে তৈরি হয় দেবীর মূর্তি। সোনার তৈরি বলেই তাঁর নাম কনক দুর্গা। তবে দেবীর মূর্তি এখানে ১০ হাত বিশিষ্ট নয়। তিনি চার হাতের অশ্বারোহিণী মূর্তি। ঘোড়ায় চড়ে থাকা এই চতুর্ভুজা রূপ সচরাচর দেখা যায় না।
সবচেয়ে বড় অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে মহাষ্টমীর রাতে। এই রাতে পালিত হয় ‘বিরাম ভোগ’ আচার। নামেই প্রকাশ পায় এর মাহাত্ম্য। বিরাম অর্থাৎ বিশ্রাম। তবে দেবীর বিশ্রাম নয়, যেন ভক্তের প্রতি বাৎসল্য। চাল, বলির মাংস ও নানা উপকরণ দিয়ে তৈরি হয় আয়োজন। সব কিছু রাখা হয় একটা নতুন মাটির হাঁড়িতে। তারপর হাঁড়িটি বসানো হয় চুলোর উপর। জ্বালানো হয় সামান্য কাঠ। এরপরই মন্দিরের ঘর বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়।

সারারাত সেই ঘরে কারও প্রবেশ নিষেধ। নিশ্ছিদ্র পাহারায় থাকে চিল্কিগড়। ভোরবেলা যখন দরজা খোলা হয়, তখন ঘটে আসল বিস্ময়। দেখা যায়, হাঁড়ির ভেতরের ভোগ একদম তৈরি! ধোঁয়া উঠছে গরম প্রসাদ থেকে। কোনও রাঁধুনি নেই, পুরোহিতও ভেতরে ঢোকেননি। তবে রান্না হল কী করে? ভক্তরা বলেন, এটা স্বয়ং মহামায়ার ঐশ্বরিক লীলা। মা দুর্গা নিজেই বন্ধ দরজার ওপাশে অন্নপূর্ণা রূপ ধারণ করেন। সন্তানসম ভক্তদের জন্য নিজ হাতে ভোগ রেঁধে দেন দেবী।
বিজ্ঞান হয়তো এর পেছনে কোনও যুক্তি খুঁজবে। তাপ ধরে রাখার কারণ দর্শাবে। কিন্তু বিশ্বাসের কাছে যুক্তি থমকে যায়। প্রাচীন ঐতিহ্য আর প্রকৃতির কোলে ঘেরা এই মন্দির তাই আজও এক মায়াপুরীর মতো। শালবনের নির্জনতায় ডুলুং নদীর স্রোত আজও যেন সেই অলৌকিক গল্পই বলে চলে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
