রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ শহরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিল পুলিশ। তোলাবাজি (Extortion), পুকুর ভরাট, জোরপূর্বক জমি জবরদখল (Land Grabbing) এবং সাধারণ মানুষকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে রায়গঞ্জ পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সরকার ওরফে লিটনকে গ্রেপ্তার করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ (TMC Councillor Arrested)। শুক্রবার রাত পৌনে আটটা নাগাদ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় (TMC Councillor)। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। পুলিশ সুপার ডা. সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেপ্তারি এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই গ্রেপ্তারির নেপথ্যে রয়েছে একাধিক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। কান্তনগরের বাসিন্দা অমিয় রাজবংশীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালে তাঁর বসতবাড়ির দুই কাঠা জমি ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রির বায়না হয়। বায়না বাবদ আংশিক টাকা দিলেও বাকি টাকা না মিটিয়ে একদিন রাতে দলবল নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হন তৎকালীন কাউন্সিলর ও তাঁর সহযোগীরা। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেই জমি জবরদখল করে অন্য একজনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রভাবশালীদের ভয়ে এতদিন মুখ খুলতে পারেননি ভুক্তভোগীরা।
শুধু অমিয় রাজবংশীই নন, এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোটি টাকার সম্পত্তি জবরদখলের নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী চক্র। এক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ইংরেজি শিক্ষকের তিন কাঠা জমি মালিকের অনুমতি ছাড়াই জবরদখল করে সেখানে কংক্রিটের পিলার তুলে স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ধৃতের বিরুদ্ধে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ধরনের বেআইনি কাজকর্ম এবং জবরদখলের ঘটনায় রায়গঞ্জ শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
